নববিবাহিত অসুস্থ স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিয়েছে স্বামী!

চার মাস আগে তরুণী তাহমিনার (১৯) বিয়ে হয় বৃদ্ধ এক ব্যক্তির সাথে। স্থানীয় ঘটকের পাল্লায় পড়ে মেয়ের জন্য মাঝবয়সী জামাই বেছে নেন দিনমজুর বাবা। কিন্তু বিয়ের মেহেদীর দাগ না শুকাতেই অসুস্থ হওয়ায় বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী। বিয়ের স্মৃতি নিয়ে খালি হাতে বাবার বাড়িতে ফেরেন তরুণী তাহমিনা। অন্যের দেওয়া জায়গায় ঘর তুলে কোনো মতে বাস করছে দরিদ্র পরিবারটি।
এদিকে সুস্থ হলে তবেই নববিবাহিতা স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে নেবেন এমন কথা বলেছেন স্বামী। পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের দিনমজুর তোফাজ্জ্বল হোসেন তোফা ও মা সামর্থ্য বেগমের বড় মেয়ে তাহমিনা। তিন মাস ধরে বিছানায় শুয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে; তবুও খোঁজ নেন না স্বামী! মেয়ের এমন করুণ পরিণতি দেখে দিশেহারা অসহায় পরিবারটি। সম্বল বলতে কিছুই নেই। বর্তমানে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করলেও টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না দরিদ্র বাবা-মা।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বাবার দারিদ্রতার সুযোগে তাহমিনার জন্য বৃদ্ধ পাত্রের খোঁজ নিয়ে আসেন শামীম হোসেন নামে স্থানীয় এক ঘটক। বৃদ্ধ পাত্র পছন্দ না হলেও দারিদ্রতার কথা চিন্তা করে বিয়েতে রাজি হন দিনমজুর বাবা তোফাজ্জ্বল। বাবা-মার পছন্দ মেনেও নেন তাহমিনা। মাস চারেক আগে রাতের অন্ধকারে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়পুরের মহম্মদপুর গ্রামের হোটেল বাবুর্চি সোলাইমান হোসেনের (৫৫) সাথে স্থানীয় এক কাজীর মাধ্যমে বিয়ে হয় তাহমিনার। মানুষের কাছে চেয়ে চিন্তে জামাইকেযৌতুক হিসেবে দেন নগদ ১২ হাজার টাকা।
কিন্তু বিধিবাম; অসুস্থ হওয়ার পর ঠাঁই হয়নি স্বামীর ঘরে। দিনমজুর বাবা ধারদেনা করে করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন তাহমিনাকে। পরীক্ষা-নীরিক্ষায় ধরা পড়ে তাহমিনার দুটো কিডনীই নষ্টের পথে। ফুসফুসে পানি জমেছে। পাশাপাশি হার্টের সমস্যাও রয়েছে। সুস্থ করতে হলে দ্রত ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন তাহমিনার। এর জন্য লাগবে অনেক টাকা। যা তাদের পক্ষে কোনো ভাবেই জোগাড় করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তাহমিনার শরীর ফুলে গেছে। বিছানায় শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। মেয়ের এমন করুণ পরিণতি দেখে অঝোরে কেঁদে চলছেন মা সামর্থ্য বেগম।
অশ্রসিক্ত কন্ঠে বাবা তোফাজ্জ্বল হোসেন বলেন, অসুস্থ হওয়ায় মেয়েকে বের করে দিল জামাই। খোঁজও নেয় না। বলেছে সুস্থ হলে তবেই ফিরিয়ে নেবে। আমার দারিদ্রতার সুযোগ সবাই নিয়েছে। ঘটকের পাল্লায় পড়ে আমার বয়সের চেয়েও বেশি বয়সীর সাথে মেয়ের বিয়ে দিলাম শুধু অভাবের কারণে! এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না মেয়ের। তাহমিনাকে সুস্থ করতে প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান ইসলাম বলেন, তাহমিনার সাথে যা হয়েছে সেটা অমানবিক। অসুস্থ স্ত্রীকে বের করে দেয়া ঠিক হয়নি। মেয়েটির বাবা খুব গরিব মানুষ। তাদের পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। তাহমিনার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে চাইলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করা যেতে পারে- বাবা তোফাজ্জ্বল-০১৭৬২-৭২৫৪৩৯ (বিকাশ)।

মন্তব্যসমূহ (০)


লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন