মহম্মদপুরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য।

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে মাগুরা মহম্মদপুরের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রয়েছে অসামান্য অবদান।  

রক্তাক্ত রণাঙ্গনে যুদ্ধ করতে গিয়ে অনেকে শহীদ হয়েছেন। এসব বীর সৈনিকদের অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত রাখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য মুক্ত যুদ্ধ স্মৃতি চত্বর নির্মান করেছেন। 
এছাড়াও তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মার্কেট,  পাঠাগার, স্কুল ও সড়কের নামকরনও করেছেন। 

একাত্তরের রণাঙ্গনে মহম্মদপুর শহীদ হয়েছিলেন ৬ মুক্তিপাগল বাঙালি। তারা হলেন, শহীদ আবীর, শহীদ নুরুল ইসলাম, শহীদ জহিরুল ইসলাম মুকুল, শহীদ আহম্মদ, শহীদ মহম্মদ এবং শহীদ মহম্মদ আলী। 

মহম্মদপুরকে শত্রু মুক্ত করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন তারা।

তাদের স্মৃতির স্মরণার্থে তাদের সম্পর্কে জেনে নিই।

শহীদ আবীর হোসেনঃ 
১৯৭১ সালের ১৬ অক্টোবর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন সাহসী তরুন আবীর হোসেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে দেশ মাতৃকার ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার নাম মহম্মদপুর তথা মাগুরা বাসীর অন্তরে গাথা। 

শহীদ নুরুল ইসলামঃ
 নুরুল ইসলামের বাড়ি মহম্মদপুর নহাটা গ্রামে। ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই নহাটায় সংঘটিত সম্মুখ যুদ্ধে হানাদার   বাহিনীর ছোড়া গুলিতে নুরুল ইসলাম শহীদ হন। যে স্থানে তিনি শহীদ হয়েছিলেন সেই স্থানে তার স্মরণে একটি স্মৃতি ফলক নির্মান করা হয়েছে। 

শহীদ জহিরুল ইসলাম মুকুলঃ  শহীদ মুকুলের বাড়ি মাগুরার  শ্রীপুর উপজেলায়। অকুতোভয়ী ওই সৈনিক মহম্মদপুরের বিনোদপুরে মৃত্যুবরন করেছিলেন। বিনোদপুরে তার স্মরণে স্মৃতি ফলক নির্মান করা হয়েছে। 

শহীদ আহম্মদ ও মহম্মদ হোসেনঃ
 আহম্মদ ও মহম্মদ দুই ভাই সহদর। উপজেলার নাগড়িপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর মহম্মদপুর সদরে যে যুদ্ধ হয়েছিল তা  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস 'মহম্মদপুরের যুদ্ধ ' নামে খ্যাত। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তি যুদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয়।এই যুদ্ধে দুইভাই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। রাজাকারদের ছোড়া গুলিতে দুই ভাই একই জায়গায় শহীদ হন। 

শহীদ মহম্মদ আলীঃ
 মহম্মদ আলীর  বাড়ী যশোরের রুপদিয়ায়।  তিনিও ১৯ নভেম্বর মহম্মদপুরের যুদ্ধে শহীদ হন।

এভাবেই মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর ৭ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয়। চারদিকে রক্ত হয়ে যায়, জয়োল্লাস, হয় বিজয় মিছিল।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password