বাঘ জো বাইডেনের সাথে খাঁচার ভিতরে একদিন: সাংবাদিক কনক

বাঘ জো বাইডেনের সাথে খাঁচার ভিতরে একদিন: সাংবাদিক কনক
বাঘ!
শব্দটি শুনলেই মনের ভিতরকার কল্পনায় বাস্তবিক এক ভয়ংকর প্রাণীর প্রতিচ্ছবি অংকিত হয়। হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার হয় অচিরেই।

সাংবাদিকতা পেশায়, বা ডকুমেন্টারি তৈরীতে যদি আপনাকে আস্ত একটা শক্তিশালী বাঘের খাঁচার ভিতরে যেতে হয়, তো কি করবেন? কেমন হবে আপনার অনুভূতি?
নাম তার "জো বাইডেন"। খাঁচার ভিতরে 'জো বাইডেন' বন্দি থাকলেও সাংবাদিক আজমীর হাসান কনক ভাইকে ঠিক তাঁর মানে 'জো বাইডেনের' ফুটেজ নিতে হয় খাঁচার ভিতরে গিয়েই। 

সেই অভিজ্ঞতাটাই কনক ভাই শেয়ার করেছেন তার ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্টের মাধ্যমে। 

অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লিখেছেনঃ "বাঘের খাঁচায় বাঘের সাথে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। নিজ দায়িত্বে জীবনের শ্রেষ্ঠ ঝুকি নেবার অভিজ্ঞতা জানাবো আপনাদের"।

"আমি আজমীর হাসান কনক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভয়েস অফ আমেরিকায় কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ঝুঁকি নেবার কথা কারও অজানা নয়। সবচেয়ে লেটেস্ট উদাহরণটি দিচ্ছি। আফগানিস্তানে তালিবানরা সাংবাদিকদের খুজছেন। ভাবুন কতটা সংকটজনক অবস্থায় আছে সাংবাদিকরা। সাংবাদিকতা যেহেতু একটি পেশা, তাই তার বিনিময়ে মূল্য আছে। তারা পাবেন পারিশ্রমিক আর সম্মান, হারাতে হতে পারে প্রাণ"।
 
"চট্টগ্রামের কিশোর বয়সী বাঘ 'জো বাইডেন'। বয়স ৯ মাস। ওজন ৫৫ কেজী। লম্বায় ৫.৫ ফুট। নক ও দাঁত বেশ বড় হয়েছে এরই মধ্যে"।

"ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রস্তাব আসলো বাঘ জো বাইডেন কে নিয়ে একটা ভিডিও স্টোরি করতে। শুনেই রাজি হয়ে গেলাম। নির্ধারিত দিন রওনা করলাম। দূরের পথ, একজন সাথে থাকলে পথ ও কাজ সহজ হয়ে যায়। সাথে নিলাম একজনকে"।
 
"নির্ধারিত দিন শ্যুট করতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হাজির। 
খাঁচার বাইরে থেকে মন মত ছবি, ফুটেজ পাচ্ছিলাম না। আমার বাঘের চোখ দেখাতে হবে, জিভ দেখাতে হবে, নখ দেখাতে হবে। কিউরেটর শুভ ভাই এর কাছে জানতে চাইলাম বাঘের খাঁচার ভেতরে ঢুকে ভিডিও করা যাবে কিনা? কতটুকু ঝুঁকি আছে? তিনি বললেন “চলুন তবে খুব সাবধানে থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। আমরা দুজন আছি”।  

"জেনে নিলাম বাইডেন বাঘ মানুষের পায়ে কামড়ালে এক সেকেন্ডে পায়ের হাড় ভেঙ্গে যাবে, ঘারে কামড়ালে … থাক অতদূর না ভাবি"। 

"আল্লাহ এর নাম নিয়ে ঢুকলাম বাঘের খাঁচায়। সাথে কিউরেটর শুভ ভাই ও তার সহকারী। বাঘ তার স্বভাব চারিত দৃষ্টি দিয়ে নিচু মাথায় আমাদের দেখলো। শুভ ভাইকে দেখে বাঘ জো বাইডেন দৌরে এলো । এসেই কিউরেটর শুভ ভাইকে কামড়াতে শুরু করলো। খুব ভয় পেলাম। বে্র হয়ে যাব প্রস্তুত হলাম। তখন শুভ ভাই বললন এগুলি লাভ বাইট। কিন্তু আমাদের যে বাঘ বাইডেন লাভ বাইট বা ব্যথাহীন কামড় দেবে সেটা কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না"।

"বাঘ ঘরঘর আওয়াজ করতে লাগলো। নিজের হৃতপিন্ডের আওয়াজ না পেলেও এর কম্পন টের পাচ্ছিলাম, ভয় কাকে বলে টের পাচ্ছিলাম। ভয়কে জয় করে শুরু করলাম শ্যুট করা। বাঘ  তেড়ে আসে আমরা খাঁচার বাইরে যাই। বাঘ দূরে যায় আমরা আবার খাঁচায় ঢুকি। কিউরেটর শুভ ভাই কিন্তু ছিলেন বাঘের খাঁচাতেই, বাইডেন এর সাথে। তার সাথে বাঘ খেলা শুরু করে দিল। যাক ভয় একটু কমলো। কিন্তু সে যে বাঘ সেটা মাথাই থেকেই গেল"। 
"এভাবেই অনেক সময় চলে গেল। বাঘ এবার গোসল করতে খাঁচার ভেতরে প্রস্তুত করা পানিভর্তি চৌবাচ্চাতে নামলো । ইতিমধ্যে পাশের খাঁচার হিংস্র বড় আরেকটি বাঘ পায়চারি করতে করতে বাইডেন বাঘ যেখানে গোসল করছিল সেখানে চলে আসলো। আমরা অত আমলে নিলাম না। কারণ শক্ত মজবুত নেটের দেয়াল এর ওপারে সে। আমরা বাইডেন বাঘ এর সাথে তার খাঁচায়। বাঘ জো বাইডেন ও কিউরেটর শুভ ভাই পানি দিয়ে খেলা করছিল। সেই দৃশ্য ধারণ করছিলাম"। 
 
"হঠাৎ বাঘ জো বাইডেন চিৎকার করে উঠলো। কিউরেটর শুভ ভাই বুঝতে পারলেন কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে। অভিজ্ঞ মানুষ ঝামেলার উৎস কোথা থেকে বুঝে ফেললেন। ক্যামেরা কিন্তু চলছেই। পাশের খাঁচার বাঘটি বাঘ জো বাইডেন এর লেজ খুব জোরে কামড়ে ধরেছে। খাঁচার ফাকা থেকে বাইডেন বাঘের লেজ পাশের খাঁচায় ঢুকে গেছে। সেই সুযোগে পাশের হিংস্র বাঘটি বাঘ জো বাইডেন এর লেজ খুব জোরে কামড়ে ধরেছে"। 

"বাইডেন বাঘ ব্যথায় কাতর তখন। সে নিজের লেজ ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু অন্য খাঁচার দুষ্ট হিংস্র বাঘ তার লেজ ছাড়ছেই না। কাকড়া যেমন কিছু ধরলে ছাড়তে চায় না, তেমন করে কামড়ে ধরেছে। কিউরেটর শুভ ভাই ছুটে গিয়ে নিজের হাত পা ছুড়ে পাশের খাঁচার বাঘকে নির্দেশ দিচ্ছে ছাড়, ছাড় ওকে। বাইডেন বাঘ ব্যথায় নিজের হাত পা ছুড়ছে। কিউরেটর শুভ ভাই ও বাঘ জো বাইডেন কাছাকাছি। ক্যামেরা চলছে তো চলছেই। এক পর্যায় পাশের খাঁচার বাঘ বাইডেন কে ছেড়ে দিল। কিন্তু ততক্ষনে কিউরেটর শুভ ভাই আহত। বাইডেন বাঘ ব্যথা সহ্য করতে না পেরে যখন নিজের হাত পা ছুড়ছিল, তখন তার নখে লেগে কিউরেটর শুভ ভাই এর শরীরের তিন জায়গাতে বড় ধরণের আচর লেগে যায়। তিনি রক্তাক্ত হন, জিন্স প্যান্ট ছিয়ে যায়"।  
  
"কিউরেটর শুভ ভাই সবাইকে দ্রুত খাঁচার বাইরে যেতে অনুরোধ করেন। বললেন আহত হয়ে বাইডেন বাঘ স্বাভাবিক মেজেজে নেই। বাইডেন বাঘ ঘরঘর করছে। রেগে আছে সে। বাঘ বাইডেনকে যে দেখাশোনা করেন, তিনি তার দক্ষতায় বাইডেন কে অন্য দিকে নিয়ে গিয়ে আমাদের বের হতে সুযোগ করে দেন"। 

"এরপর রক্তাক্ত কিউরেটর শুভ ভাই চিকিৎসা নিতে চলে যান। দুই ঘন্টা অপেক্ষা শেষে খাঁচার বাইরে থেকে আরও কিছু সময় ভিডিও ধারণ করে কাজ শেষ করি"।

"ঘুমালে স্বপ্নে নিজের নানান পরিনতি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নে কখন বাঘের বন্ধু, কখন বাঘের খাদ্য হয়ে যাই। যেদিন ঘটনা ঘটেছে সেদিন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। ঘোর কেটেছে একদিন পর থেকে। 
বাঘ জো বাইডেন ব্যথায় কাতর হয়েও আমাদের আক্রমণ করতে চেষ্টা করেনি। প্রাণ নিয়ে সুস্থ্যভাবে ঢাকা ফিরে এসেছি"। 

পরিশেষে কনক ভাই জানান যে, বাঘ জো বাইডেনের ফিচার ভিডিও ফরমেটে প্রস্তত করা সমাপ্ত হয়েছে। শীঘ্রই ভয়েস অফ আমেরিকার সবগুলি ডিজিটাল মাধ্যমে দেখা যাবে বাঘ জো বাইডেন কে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password