নওগাঁয় হাসপাতালে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, অবগত করায় তত্তাবধায়ক কটুক্তি

নওগাঁয় হাসপাতালে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, অবগত করায় তত্তাবধায়ক কটুক্তি

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সাংবাদিক সুজন রানা অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও তার সন্ত্রাসি বাহিনীর দ্বারা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে শনিবার বেলা ১২টার দিকে তত্তাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরীর সঙ্গে তার অফিসে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংগঠনিক ভাবে দেখা করেন। কিন্তু সারা দেশের সাংবাদিকদের তিনি হেয় করে ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে তুলনা করে ইতরপ্রাণি বলে কটুক্তি করেন। তার অফিস থেকে সাংবাদিকরা বেরিয়ে হাসপাতালের নিচে এসে সাংবাদিকদের কটুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে তত্তাবধায়কের দ্রত অপসারণসহ তাৎক্ষনিক কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, দৈনিক আজকের প্রভাত এর নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি সুজন রানা। হঠাৎ করে তিনি শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বুকে ব্যথা ও বোমি হওয়ায় অসুস্থ অনুভব করেন। এসময় দৈনিক মরনিং অভজারভার পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান অন্তর তাকে নিয়ে বিকেলে ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। এসময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. লুমা। এসময় কক্ষের বাহিরে ৪-৫ জন রোগী অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ডা. লুমা রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে কক্ষের ভেতর ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। যেখানে ঔষধ কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া উপহার (কক্ষের জানালা-দরজায় লাগানো পর্দা) নিয়ে আলোচনা করতে শুনা যায়। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে রোগী দেখার বিষয়ে সাংবাদিক অন্তর অনুরোধ করলে তিনি তার ওপর চড়াও হয়ে ওঠে।

তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন- ঔষধ কোম্পানির লোক যে কোনো মুহূর্তে আসবে এবং ডাক্তার ভিজিট করতে পারবে তাদের কোন নিদিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। এই বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা নাই। আপনার এতে সমস্যা কি। এসময় অন্তর মুঠোফোন দিয়ে ভিডিও করলে কেন ভিডিও করছেন, কার অনুমতি নিয়ে ভিডিও করছেন বলে আরো ক্ষিপ্ত হন ডা. লুমা। একপর্যায়ে তার নির্দেশে তার কক্ষে থাকা ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও হাসপাতালের ট্রলি ম্যান জাহিদ অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে বের করে দেয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মেহেদী হাসান অন্তর বলেন, ঘটনার পরও আমার সহকর্মী সুজন রানাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ডা. লুমাকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি চিকিৎসা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে হাসপাতাল থেকে চলে আসি। পরে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন মুরাদকে অবগত করা হলে তিনি হাসপাতালে যেতে বলেন। ওইদিন রাত ১০ টায় হাসপাতালে গিয়ে আমি ও সহকর্মী সুজন রানা ভর্তি হলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে শনিবার দুপুর ১টার দিকে হাসপাতাল থেকে দু’জনেই বাসায় চলে আসি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডা. লুমা’র কাছে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে শনিবার বেলা ১২টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতলের তত্তাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরীর সঙ্গে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংগঠনিক ভাবে দেখা করে। কিন্তু সাংবাদিকদের তিনি হেয় করে ইতরপ্রাণি বলে কথা বলেন। এক পর্যায়ে ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরী বলেন- আমি আমার মতো এগোবো। আপনারা আপনার মতো এগোবেন। আপনারা যা পারেন করেন। জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন নওগাঁর সাধারন সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন মুরাদ বলেন, সাংগঠনিক ভাবে আমরা তত্তাবধায়কের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করে সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি করেন।

ঘটনার পর তাৎক্ষনিক তার ( তত্তাবধায়ক) অপসারণ, হাসপাতাল চত্বর দালালমুক্ত করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শান্তির দাবীতে রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আহবান করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password