সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে মাঠে থাকবে জমিয়তে ইসলাম

সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে মাঠে থাকবে জমিয়তে ইসলাম

শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সরকার বিরোধী বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে সংলাপ করেছে বিএনপি। ঘন্টাব্যাপী এ সংলাপে বিএনপির পক্ষে অংশ নেন- মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা মনসুরুল হাসান রায়পুরীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। অন্যরা হলেন- দলটির মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, নির্বাহী সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী, সিনিয়র সহ-সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি মাওলানা শহীদুল ইসলাম আনসারী, আলহাজ্ব জামাল নাসের চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা রশিদ বীন ওয়াক্কাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী জাকির হোসাইন খান ।

সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের মানুষের ওপরে যে দুঃশাসন চেপে বসে আছে অনির্বাচিত একটি সরকার। তারা মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ্য, আশা-আকাঙ্খা সেগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থনীতি- শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। প্রশাসন বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে রাষ্ট্রকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ব্যাপারে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে একমত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা একমত হয়েছি, আমাদের দেশ নেত্রী খালেদা জিয়া, যিনি সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন। যাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় প্রতিহিংসামূলকভাবে আজকে তিন বছর ধরে, প্রথমে কারা অন্তরীণ আর এখন গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। চরম অসুস্থতার মধ্যেও তাকে বিদেশে চিকিৎসা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আলেম ওলামাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ যাদের রাজনৈতিক কারণে বন্দি রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি চাই।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৫লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের সবার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করার ব্যাপারে একমত হয়েছি। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা আরও একমত হয়েছি যে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবো। সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সেই সঙ্গে সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।

তারপরে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে তাদের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে একটি নতুন পার্লামেন্ট গঠন হবে। সেই পার্লামেন্টের মাধ্যমে সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠন করা হবে। আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের ব্যাপারে আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে যুগপৎভাবে আন্দোলন শুরু করবো।

আন্দোলনকে একটা সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে অর্থাৎ এই সরকারকে পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে তি সফল করার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মনসুরুল হাসান রায়পুরী বলেন, দেশের মানুষ আজকে সুখী না, পেটের খুদায় মানুষ রাস্তাঘাটে হাহাকার করছে।

বন্যার মধ্যেও সরকারের সাহায্য পর্যপ্ত পরিমাণে যাচ্ছে না। তাছাড়া দেশের গণতন্ত্রকে এই সরকার ধ্বংস করে ফেলেছে। এই সরকারকে আর টিকে থাকতে দেওয়া যায় না। অনতিবিলম্বে এই সরকারকে হঠাতে হবে। সেই হঠানোর জন্য আন্দোলনের প্রয়োজন। সেজন্য যা কিছু প্রয়োজন হয় তা করতে একমত হয়েছি। তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলন বৃথা যাবে না। এই দেশে অতীতেও আন্দোলন হয়েছে। কোন স্বৈরাচার টিকতে পারবে না। আমরা সেই মনোবল নিয়ে মাঠে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মন্তব্যসমূহ (০)