লোডশেডিং না দেওয়ার নির্দেশ সাহরি-ইফতার-তারাবিতে

লোডশেডিং না দেওয়ার নির্দেশ সাহরি-ইফতার-তারাবিতে

আসন্ন রমজানে সাহরি, ইফতার ও তারাবির সময় লোডশেডিং না করার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় নিয়ে বিদ্যুৎ ভবনে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীরবিক্রম। তিনি আসন্ন রমজান ও গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইনসহ প্রমুখ। সভায় জানানো হয়, চলতি গ্রীষ্মকালে পিক আওয়ারে ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে।

গ্যাসের সম্ভাব্য চাহিদা এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে। সভায় আসন্ন রমজান মাসে ও গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত ও বৃদ্ধি করা, পিক আওয়ারে (সান্ধ্যকালীন) চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময়ে লোডশেড না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া টেকনিক্যাল বা অন্য কোনো কারণে যেন লোডশেড না হয় সেদিকে সজাগ থাকা; সকল বিতরণ সংস্থা ও কম্পানিকে ওভারলোডেড ট্রান্সফরমার পরীক্ষা করে প্রতিস্থাপন করা এবং স্টোরে পর্যাপ্ত ট্রান্সফরমার মজুদ রাখা; অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা; বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; বিদ্যুতের অপচয় রোধে সিএফএল বাল্বের পরিবর্তে এলইডি বাল্ব প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; সুপারমার্কেট, পেট্রল পাম্প ও সিএনজি গ্যাস স্টেশনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাতি ব্যবহার না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে আসন্ন রমজান মাসে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতানসমূহ খোলা রাখার বিষয়ে বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করা; ইফতার ও তারাবির সময় শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এসি ব্যবহার সীমিত রাখা; সকল দোকান মালিককে মার্কেটের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ইকুইপমেন্ট পরীক্ষা করা; বিএসটিআইয়ের মান অনুযায়ী তার/ইকুইপমেন্ট বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password