টিকা নেওয়ার পরেও কেন হচ্ছে করোনা? জেনে নিন

করোনা রুখতে টিকাকরণে জোর দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পরেও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কীনিলেও রেহাই পাওয়া যাবে না করোনাভাইরাসের হাত থেকে? এবার এই প্রশ্নের জবাব দিলেন ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৃষ্ণা ইল্লা (Krishna Ella)। তিনি জানান, ইনজেকটেবল ভ্যাকসিন শুধুমাত্র ফুসফুসের নিম্নাংশকে সুরক্ষিত করে, উর্ধ্বাংশকে নয়। সেক্ষেত্রে করোনা টিকার দু'টি ডোজ নেওয়ার পরেও সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, টিকা নেওয়ার পরেও মাস্ক পরা থেকে শুধু করে কোভিড সম্পর্কিত যাবতীয় সতর্কতাবিধি মেনে চলতে হবে।

কৃষ্ণা জানান, টিকা নিলে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা অনেকটাই কমবে। প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে না করোনা। করোনা সংক্রমণ এড়াতে টিকাকরণে জোর দিচ্ছে সরকার। কিন্তু টিকা নেওয়ার পরেও এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে পাকাপাকিভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে, এমনটা জোর গলায় জানাতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরাই। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন এবং সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দুটি টিকাই ইনজেকটেবল।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৯৫ হাজার ৪১ জন। এই বৃদ্ধির জেরে করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৪ জন। আমেরিকার পর ভারত এখন দ্বিতীয় দেশ যেখানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা লাগাতার ২ লাখের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৩ লাখের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে সংক্রমণ। আমেরিকার দ্বিতীয় ঢেউতেও দৈনিক এত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হননি।

গত বছরের তুলনায় এ বছর আরও ভয়ঙ্কর রুপ নিয়েছে করোনা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশের দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২,০২৩ জনের। মার্চের শুরুতেও দেশের দৈনিক মৃত্যু ছিল ১০০-১৫০ ঘরে। দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৭০ জনের। দেশে কোভিড মুক্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩০ জন। সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এই মুহূর্তে ২১ লাখ ৫০ হাজার ১১৯ জন। দেশে সুস্থতার হার ৮৫ শতাংশ। আর এখনও পর্যন্ত টিকাকারণ হয়েছে ১৩ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১০ জনের।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন