জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বৃদ্ধ মা

মা ডাকটা কতই না মধুর। এক জন মা কত কষ্ট করে সন্তানকে লালন পালন করে। অথচ সেই সন্তান বড় হয়ে বাবা মাকে ভুলে যায়। এতো গুলো সন্তান থাকার শর্তেও এক জন বৃদ্ধ মা কে পালিয়ে বেড়াতে হয় সেই সন্তানদের ভয়ে। বৃদ্ধ মা তিন ছেলের হত্যার হুমকিতে এখন বাড়িছাড়া। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নানা জায়গায়। নিজের বাস্তুভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যই ওই নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃদ্ধ এক মা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত শেখ রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী আমেনা বেওয়ার ছেলেমেয়ে ১৯ জন। সন্তানদের সবাই উচ্চশিক্ষিত এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘদিন ধরে তার তিন ছেলে শেখ মো. রেজাউল করিম, শেখ মো. আবু রায়হান, শেখ মো. আব্দুর রব তাদের মাকে কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্য বা ভরণপোষণ প্রদান করেন না।

উল্টো তারা তাদের আর্থিক দেনা পরিশোধের জন্য মায়ের নামে থাকা  জমিজমা তিন ভাইয়ের নামে  লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এছাড়া ছোট ছেলে রেন্টুর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রয় করতে গেলে তারা গ্রামের বিভিন্ন লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে তাদের ভয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওই জমি কিনতে অনীহা প্রকাশ করেন। তারা শুধু এসব কাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি, আমেনা খাতুনের  বন্ধকি জমির গ্রহীতাদের পাঠিয়ে টাকা আদায়ের জন্য অনবরত চাপ প্রদান করতে বাধ্য করে। ফলে তিনি  মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এছাড়া গত ২১ এপ্রিল বিকালে আমেনা খাতুন পারিবারিক বিষয় নিয়ে বড় ছেলের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সময় অপর ছেলে আবু রায়হান ক্ষিপ্ত হয়ে ছোট ছেলে রান্টুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং ঘরের দরজা, জানালা লাঠি দিয়ে ভাংচুর করেন। তাকে মারতে উদ্যত হন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। জমি লিখে নেওয়ার জন্য তিন ছেলে এ ধরনের কাজ করছে বলে তিনি জানান। তাই তাদের ভয়ে তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি তার জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন ।

তবে অভিযুক্ত ছেলে শেখ মো. আব্দুর রব বলেন, মায়ের বয়স হয়েছে, মাকে আমার অন্য ভাইয়েরা ভুল বুঝিয়ে এসব মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ করিয়েছে। আসলে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সিংড়া থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এখনো এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন