লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউন দিয়েছে সরকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি এবং বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘প্রতিবাদী মানুষের রাস্তায় নামা ঠেকাতে লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউন দিয়েছে সরকার।’ সোমবার (৫ এপ্রিল) বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

নুর বলেন, ‘লকডাউন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা দিয়েছে। কারণ মোদিবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ডানপন্থী, বামপন্থী, ছাত্র-জনতা সবার মাঝেই একটা প্রতিবাদ হয়েছে। সেই প্রতিবাদের রেশ এখনও চলমান। মানুষের যে প্রতিবাদী চেতনা, কিংবা রাস্তায় নেমে আসার যে প্রবণতা এটাকে থামানোর জন্য সরকার লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউন দিয়েছে। কার্যত কখনই করোনাকে কেন্দ্র করে তারা লকডাউন দেয়নি। রহস্যজনকভাবে এখন লকডাউন দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেও তাতে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ বিনা উসকানিতে দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা ও গুলি চালায়। যাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭৪২ জন আহত, ১৯ জন নিহত ও ১৮২ জন গ্রেফতার হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাষ্ট্র কর্তৃক এমন পক্ষপাতমূলক ও জঘন্য কাজ স্পষ্টতই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদযাপন অনুষ্ঠান সরকার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণকে সম্পৃক্ত না করে সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পালন করেছে।’

অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গতকাল গুলশান থেকে বাসায় ফেরার পথে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে একদল লোক উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে আমাকে অপহরণের চেষ্টা করে। রাস্তায় যানজট থাকায় গাড়ি চলার মতো অবস্থা ছিল না। আমি গাড়ির দরজা ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের হয়ে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করলে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোশাক পরিহিত কিছু ডিবি ও পুলিশের লোক এসে ছাত্র অধিকার পরিষদ যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন ফরহাদ ও পরিচিত ছোটভাই শিপনকে গ্রেফতার করে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এর আগে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কয়েকবার জিডি করেও কোনও প্রতিকার পাইনি। বরং বিভিন্ন সময় হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার  হয়েছি। আমি মনে করি রাষ্ট্র আমাদের প্রতি এক ধরনের বৈরী আচরণ করছে। তারপরও আমরা মনে করি প্রশাসনের কিছু লোক দালালি করলেও বেশিরভাগই দেশপ্রেমিক। আমি ঠিক করেছি যে আমি ডিএমপি কমিশনার এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করবো জীবনের নিরাপত্তার জন্য।’

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন