ঈদ সবার জন্য! আনন্দটা কি সবার?

ঈদ সবার জন্য! আনন্দটা কি সবার?

করোনা পরিস্থিতির মাঝেই দরজায় কড়া নাড়ছে আরেকটি ঈদ। ঈদ আসলেই আমরা সাধারণত দুই শ্রেনীর মানুষদের ঈদ উদযাপন নিয়ে আলোচনা করি। এক উচ্চবিত্ত মানুষদের ঈদ নিয়ে এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদ উদযাপন নিয়ে। প্রায়সময় মধ্যবিত্তদের ঈদ বাইরেই থেকে যায়। আজকের আয়োজনটি মধ্যবিত্তদের কোরবানির ঈদ উদযাপন নিয়ে।

ঈদ উল আযহায় সৃষ্টকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সবাই পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। যাদের সামর্থ আছে তাদের পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আমাদের দেশে সবার সামর্থ হয়না পশু কোরবানি করার। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত অনেকের পশু কোরবানি করার সামর্থ হয়না। প্রতিবার এই কোরনবানির ঈদে কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয় তারা। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা তাদের সন্তানদের নিয়ে হাটে যাতে পারে না। যেখানে সামর্থবান মানুষেরা তাদের সন্তানদের সাথে নিয়ে হাটে গিয়ে সন্তানদের পছন্দ অনুযায়ি পশু কিনে নিয়ে আসছেন।সন্তানদের নিয়ে হাটে যাওয়া, পশু কিনে সবাই মিলে পশুর সাথে সাথে হেটে বাসায় আসা, ঈদের দিন নামাজ পড়ে এসে সবাই মিলে পশু কোরবানি করা, গোশত কাটা, গোশত ভাগ করা, সবার মাঝে সেই গোশত বন্টন করার মাঝে অন্যরকম এক আনন্দ লুকায়িত থাকে।

অন্যদিকে হাটে যাবার কথা উঠলেই নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবারা সেই কথা পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা বলেন, দেখি এইবার কোরবানি দিতে পারি কিনা। টাকা যোগার হয়ে গেলেই তোকে সাথে নিয়ে হাটে যাব বাবা। মধ্যবিত্ত বাবারা অনেক চেষ্টা করেন টাকা যোগাড় করতে যাতে একা না হলে অন্তত ভাগে কোরবানি দেয়ার জন্য। কিন্ত সংসারের চাহিদা পূরন করতে গিয়ে দেখা যায় কোরবানির পশু কেনার জন্য তার কাছে যথেষ্ট টাকা অবশিষ্ট নেই।

এদিকে নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবাদের দেখতে দেখতে ঈদ চলে আসে। সন্তানকে নিয়ে আর হাটে যাওয়া হয়না। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদের বাবার সাথে হাটে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়না। হাটে গিয়ে বাবাকে বলে হয়না বাবা আমি কালো গরু কিনবো না, আমি লাল গরু কিনব। বাবা আমি বড় শিং দেখে গরু কিনব। শিং না থাকলে গরু কিনবো না। বাবা আমাকে গরুর জন্য মালা কিনে দাও। হাটে হয়তো তারা একা বা বন্ধুদের সাথে যায় কিন্ত বাবার সাথে গিয়ে কোরবানির পশু কিনে বাড়ি ফেরা হয়না। ঈদের দিন নামাজ শেষে পাশের বাসার সবাই যখন কোরবানির পশু জবাই ও গোশত কাটা নিয়ে ব্যাস্ত তখন তখন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে গুলো বাসার মধ্যে বসে থাকে।

দূর থেকে পশু কোরবানি ও গোশত কাটার আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করে আর ভাবে আমরাও যদি কোরবানি দিতে পারতাম, তাহলে আমি গরুর মাথাটা ধরতাম, কেউ হয়তো ভাবে আমি গরুর পা ধরে রাখতাম শক্ত করে আবার কেউ কেউ ভাবে আমি গরুর হাড়গুলো কাটতাম। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত বাবারা নামাজ পড়ে এসে নিজেদের ঘরে বন্দি করে রাখে যাতে নিজের কষ্টটা কেউ দেখতে না পারে। তারা একা একা হয়তো ভাবতে থাকে আমার যদি কোরবানি দেয়ার সামর্থ থাকতো তাহলে আমার ছেলেমেয়েদের দূর থেকে কোরবানির আনন্দ নিতে হতো না। এই কথা ভাবতে ভাবতে গরুর গোশত দিয়ে খিচুরি খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে যেই গোশত তিনি ঈদের আগের দিন কিনে নিয়ে এসেছিলেন। এভাবেই কেটে যায় নিম্ন মধ্যবিত্তদের কোরবানির ঈদ। কোরবানির ঈদের এই আনন্দটা আজব এক আনন্দ। ঈদ সবার জন্য হলেও আনন্দটা কি সবার জন্য?

প্রতি ঈদেই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এক বুক আশা নিয়ে পরের কোরবানির ঈদের কথা কল্পনা করে যে আমরাও হয়তো আগামি বছর পশু কোরবানি করবো আর আমাদের দূর থেকে সব দেখতে হবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে যায়। স্বপ্নগুলো ছুয়ে দেখা হয়না তাদের। করোনার কারণে গত দুই কোরবানির ঈদ যাবত এমন ভাবনার মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ করোনার জন্য অনেকের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না। ধারনা করা হচ্ছে এবারও আমদের দেশে ৩০-৩৫ ভাগ কোরবানি কম হবে। করোনা এবারও দূর থেকে কোরবানির আনন্দ উপভোগ করা মানুষে সংখ্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password