বাংলাদেশী সামিয়া ও লামিয়ার নিউইয়র্ক টাইমস বৃত্তি অর্জন

বাংলাদেশের গৌরব বয়ে নিয়ে এলো দুই শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য নিউইয়র্ক টাইমস কলেজ বৃত্তি পেলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ ১২ জন। 

যাদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে তারা সবাই দারিদ্র্য, বুলিং, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকট এবং পারিবারিক শোক মোকাবিলা করে নিজেদেরকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলেছেন। এদের কারো বয়সই ১৮ বছরের বেশি নয়। 

যারা বৃত্তি পেয়েছেন তারা হলেন- বাংলাদেশের সামিয়া আফরিন ও লামিয়া হক, পাকিস্তানের আয়মা আলি, চীনা বংশোদ্ভুত ব্রায়ান ঝ্যাং ও জেনিফার ওয়েং, কাজাখস্তানের এনলিক কাজাশেভা, এস্তোনিয়ার আলেক্স কোয়িভ, ইকুয়েডরের পরিবারের মেয়ে জাইলেন সিনচি, নিউইয়র্কের ব্রনক্সের ডেনিয়েল নাইট ও নিকল রাজগর, নিউইয়র্ক সিটির টাইগারলিলি হপসন ও জেলিস উইলিয়ামস। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের মত, ১৯৯৯ সাল থেকে চালু হওয়া এই বৃত্তি কর্মসূচি মূলত জনসাধারণের দান ও একটি দাতব্য তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য বছরে ১৫ হাজার ডলার করে পাবেন। 

বৃত্তি পাওয়া সামিয়া আফরিন প্রায় ১০ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন।  নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি নিম্ন আয়ের পরিবারে বেড়ে ওঠেছেন।  তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।  

ইউনিভার্সিটি অব রোচেস্টারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়তে যাওয়া আফরিনই তার পরিবারের প্রথম নারী, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা দিচ্ছেন। 

আফরিন বলেন, ভবিষ্যৎ জীবনে আমি যে পেশাই বেছে নিই না কেন, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তা সহজ করতে আমার আজীবন চেষ্টা থাকবে। 

আরেক বাংলাদেশি লামিয়া হকের পরিবারও উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছে। পরিবারের বড় সন্তান লামিয়া জানান, শৈশবের বেশিরভাগ সময় তার কেটেছে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে। তিনি এখন ম্যাসাচুসেটসে উইলিয়ামস কলেজে অপরাধ আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেবেন। 

সামিয়া ও লামিয়ার মতো বৃত্তিজয়ী অন্য ১০ জনও যথেষ্ট প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে জীবনকে সফল করার চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছেন। ওরা সবাই আগামীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে এটাই প্রত্যাশা।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password