গভীর রাতে কিশোরীর কান্না,অতঃপর...

গভীর রাতে কিশোরীর কান্না,অতঃপর...

গভীর রাতে কিশোরীর কান্না শুনতে পান প্রতিবেশীরা। বিয়েতে রাজী না হওয়ায় বাবা ও মামাদের চাপের মুখে বেকায়দায় কিশোরী। এ খবর পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরী কনেকে উদ্ধার করে ভুয়া কাজী ও কিশোরীর দুই মামাকে আটক করে। পরে ভ্রমাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভুয়া কাজীকে এক মাস ও দুই মামাকে পনের দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর এ ধরনের ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার জোড়পুকুরপাড় মহল্লায়। আজ শুক্রবার সকালে কারা পরোয়ানা দিয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইল পৌরসভার জোরপুকুর পাড় মহল্লার ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে অতি গোপনে বিয়ের আয়োজন শুরু হয়। কিন্তু এর মধ্যে রাত সাড়ে ১১টার পর এক কিশোরীর কান্নার আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে কিশোরীর অমতেই তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির সাথে। পরে জানা যায়, পাশের কেন্দুয়া উপজেলার পুরান বাড়ি গ্রামের মো. আবেদ আলীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে বিউটি আক্তারের বিয়ের আয়োজন চলছিল পৌরসভার ওই মহল্লার মামা শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামের বাড়িতে। বর নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বাঁশহাটি গ্রামের পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। বরের লোকজন ও বর ছাড়াও কথিত কাজী আবুল হাসেমকে সাথে নিয়ে আসা হয়।

নামকাওয়াস্তে খাওয়া-দাওয়া সেরে বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে খবর পৌঁছে ইউএনও এরশাদ উদ্দিনের কাছে। তিনি একদল পুলিশ নিয়ে অতি গোপনে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ভুয়া কাজীসহ কনের দুই মামাকে আটক করেন। এ সময় বর পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এনে সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভুয়া কাজীকে এক মাস ও কনের দুই মামা শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামকে পনের দিনেরে করে বিনাশ্রম কারাদন্ডে দণ্ডিত করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও এরশাদ উদ্দন বলেন, বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ভলিউম বই জব্দ করা হয়েছে। এ অবস্থায় কাজীকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password