স্বামীর মোটা হওয়া নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্যের’ প্রতিবাদ জানালেন লিংকনের স্ত্রী

স্বামীর মোটা হওয়া নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্যের’ প্রতিবাদ জানালেন লিংকনের স্ত্রী

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশি ব্যান্ড দল আর্টসেল’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জর্জ লিংকন। শারীরিকভাবে মোটা হওয়ার কারণে অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিরূপ মন্তব্যের’ শিকার হয়ে থাকেন জনপ্রিয় এই রক স্টার। এই পরিপ্রেক্ষিতে রকস্টার লিংকন নিজেই তার এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘দেখলাম আপনারা শোধরানোর পাত্র নন, তাই আর চুপ করে থাকলাম না। আমার স্ত্রী মিমোসা লিমু হাওলাদারকে বিয়ে করেছি ৪ বছরের একটু বেশি সময় হলো। একদম শুরু থেকেই আপনাদের মধ্যে অনেকেই আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে অপমান-অপদস্থ করে আসছেন। তার একটাই অপরাধ, সে আমার সহধর্মিণী হিসেবে সব সময়ই আমাকে সাপোর্ট করেছে, আমাকে অপমানিত হতে দেখলে চুপ করে থাকেনি। আমি যে আপনাদের অসম্মানজনক কমেন্ট দেখি না, এমনটা নয়। আমি সবই দেখি কিন্তু চুপ করে ছিলাম, আপনারা হয়তো একদিন শুধরে যাবেন, নিজের ভুলটা বুঝতে পারবেন ভেবে’।

এবার জনপ্রিয় রক্সটার লিংকনের শারীরিক গঠন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিরূপ মন্তব্যের’ প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্ত্রী মিমোসা লিমু হাওলাদার। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে স্বামীর বডিশেমিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লিমু। গত রোববার লিমু হাওলাদার ফেসবুকে লিখেন, ‘আপনারা অনেকেই যখন আমাকে বলেন, ভাবি, লিংকন ভাইকে কম খেতে বলেন, কন্ট্রোল করতে বলেন, ভোটকা, ডায়েট করতে বলেন, পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হতে বলেন, এসব আসলে আপনাদের লিংকনের প্রতি কেয়ার না, এগুলো একপ্রকার বডিশেমিং, বডিশেমিংয়ের মতো জঘন্য কাজ আপনারা করেন, যেটা আমি নিজেও করতাম, যখন বুঝতাম না; এখন লিংকনের সঙ্গে মেশার পর বুঝি একটা মানুষ ইচ্ছা করে মোটা বা চিকন, ফরসা বা কালো, বেঁটে বা লম্বা হয় না, আমরা কেন তাদের নিয়ে হাসাহাসি করব?’

লিমু আরও বলেন, ‘আপনারাই বলেন লিংকন আপনাদের লিজেন্ড, আবার নিজেরাই ওর মোটা হওয়া নিয়ে হাসাহাসি করেন, একেকজন তো উপদেশ দেন এমনভাবে যেন মোটা হওয়াটা ইচ্ছাকৃত। মোটা হওয়াটা কেউ ইচ্ছে করে হয় না, কেউ খুশিতে বা খেয়েই মোটা হয় না, ওবেসিটি নামে একটা রোগ আছে যে কারণে মানুষ মোটা হয়’।

বিয়ের আগে জর্জ লিংকন ১২৩ কেজি জানার পর লিমু নিজেও প্রথম দিকে রাজি ছিলেন না। পরে নিজের ভুল বুঝতে পারেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে লিমু লেখেন, ‘কোনোভাবেই রাজি ছিলাম না, কিন্তু মানুষটা আমার খুব কেয়ার করত, আমি যে হোস্টেলে থাকতাম, সেখানে খাবার একটু ভালো ছিল না, সে বরাবরই চাইত, আমার জন্য রান্না করে পাঠাতে, আমি না করতাম। আমার এত বেশি কেয়ার করত, যা আমার বাবা-মা ছাড়া কারও কাছে কোনো দিনই পাইনি আমি। বেশির ভাগ জায়গায় আমি সবার কাছে অপ্রিয়, আত্মীয়স্বজনের কাছে ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো আমি, এটা বরাবরই বলি এবং সব বুঝেও যথাসাধ্য চেষ্টা করি কেউ সাহায্য চাওয়ামাত্র সাহায্য করতে, কিন্তু তবু কারও প্রিয় হতে পারিনি, যতটা কম সময়ে প্রিয় হয়েছি লিংকনের কাছে’।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password