শেষ বলের নাটকীয়তায় হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

শেষ বলের নাটকীয়তায় হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : হোয়াইটওয়াশ বাঁচানোর যে স্বপ্ন নিয়ে আজ তৃতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল তা বেঁচে ছিল খেলার শেষ বল পর্যন্ত। শেষ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২ রান। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নওয়াজ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। যার ফলে বিশ্বকাপ শেষে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে টানা তিন ম্যাচে হেরে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ দল।

আজ সোমবার সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি পাঁচ উইকেটে জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের দেওয়া ১২৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে সফরকারীরা। টানা তিন পরাজয়ের বাবর আজমের দলের কাছে পরাজয় বরণ করে হোয়াইটওয়াশ হলো মাহমুদউল্লাহরা। মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৬.৬ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। দলীয় ৮৩ রানে অভিষিক্ত পেসার শহিদুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রিজওয়ান। তার আগে ৪৩ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় ৪০ রান করে ফেরেন এই তারকা ওপেনার। কঠিন উইকেটে হাত খোলার চেষ্টা করছিলেন রিজওয়ান আর হায়দার। তাদের ব্যাটে ঘুরতে থাকে রানের চাকা। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে ৪৩ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ৪০ রান করা রিজওয়ানকে বোল্ড করে দেন অভিষিক্ত শহিদুল। উইকেটে আসেন অভিজ্ঞ সরফরাজ আহমেদ।

হায়দার আলীর কাছে ওই ওভারে দুটি ছক্কা হজম করতে হয় শহিদুলকে। শহীদুলের করা ওভার থেকে আসে ১৬ রান। হাত খুলে দ্রুত রান তুলতে থাকেন হায়দার। শেষ ওভারে দরকার হয় ৮ রানের। ইনিংসে প্রথমবার বোলার হিসেবে আসেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। প্রথম বলে কোনো রান হয়নি। দ্বিতীয় বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন সরফরাজ আহমেদ (৬)। তৃতীয় বলে আবার উইকেট। ৩৮ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৪৫ করা হায়দার আলী নাজমুল হোসেন শান্তর তালুবন্দি হন। চতুর্থ বলটি স্ট্রেইট ড্রাইভে ছক্কা মারেন ইফতেখার। পঞ্চম বলে ইফতেখার আবারও উড়িয়ে মারতে গিয়ে ইয়াসির আলীর তালুবন্দি হন। শেষ বলটি মাহমুদউল্লাহ ডেলিভারি করার পর হঠাৎ সরে যান ব্যাটার নওয়াজ। বল স্টাম্পে লাগলেও আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করেন। পরে মাহমুদউল্লাহও বল করতে এসে শেষ পর্যন্ত বল না ছেড়ে একই কাণ্ড ঘটান। শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন নওয়াজ।

এর আগে শুরুতে ব্যাট করতে আসেন দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সাইফ হোসেন বাদ পড়ায় তার স্থানে ওপেনিংয়ে এসেও দলকে ভালো সূচনা এনে দিতে পারেননি শান্ত। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ৫ বলে ৫ রান করে অভিষিক্ত শাহনেওয়াজ ধানির শিকার হন তিনি। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আসায় তিনে আসেন শামীম পাটোয়ারি। ক্রিজে এসেই কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ২৩ বলে চার বাউন্ডারিতে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

তৃতীয় উইকেটের জুটিতে নাঈমকে সঙ্গ দেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তাদের ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন ওসমান কাদির। দলীয় ১১১ রানের মাথায় ফিফটির কাছ থেকে নাঈমকে ৫০ বলে ৪৭ রানে সাজঘরে ফেরান মোহাম্মদ ওয়াসিম। শেষের দিকে কেউই তেমন রান তুলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১২৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে উসমান কাদির ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password