মান্দায় ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে শোকজের নির্দেশ

মান্দায় ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে শোকজের নির্দেশ

​নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকউলী বহুমুখী হাইস্কুল ও কলেজের সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে পুনর্বহালের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামকে শোকজ করবেন বলে সাংবাদিককে জানান।  ​

আজ বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে চকউলী বহুমুখী হাইস্কুল ও কলেজের মাঠে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে "দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই" এবং "বহিষ্কৃত অধ্যক্ষের ঠাঁই নাই" সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। ​অভিযোগ উঠেছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তপ্ত রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালীন কোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে তার তোয়াক্কা করা হয়নি। ​সপ্তম ও নবম শ্রেণীর বিপাশা, মিম, মারিয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রথম পিরিয়ডে হাজিরা নেওয়ার পর আর ক্লাস হয়নি এবং দ্বিতীয় ক্লাসও হয়নি। এরপর শিক্ষকদের নির্দেশে তাদেরকে রোদের মধ্যে লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। পড়াশোনার ক্ষতি হলেও তারা বাড়িতে গিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানায়। ​​ এদিকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্বে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

এমরান হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তান স্কুল থেকে ফিরে কান্নাকাটি করে বলছে সে আর ওই স্কুলে পড়বে না। সেখানে সবসময় কোনো না কোনো ঝামেলা লেগেই থাকে। ক্লাস বাদ দিয়ে রোদের মধ্যে বাচ্চাদের দাঁড় করিয়ে রাখা অন্যায়। প্রতিবাদ করতে হলে ছুটির পর বা ছুটির দিনে করা যেত। প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ক্লাস টাইমে আজ মানববন্ধন হয়েছে এবং আমরা সেখানে অংশ নিয়েছি।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) যদি বলেন আজ ক্লাস হবে না বা করার দরকার নেই, তবে আমরা তার হুকুম মানতে বাধ্য। ​ক্লাস চলাকালীন কেন এমন কর্মসূচি পালন করা হলো এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলাম। ​

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আখতার জাহান সাথী বলেন, ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে দাঁড় করানোর কোনো সুযোগ নেই। মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) থেকে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে পুনরায় বহাল করার স্পষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সভাপতি হিসেবে আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে জানিয়েছি। ​

তিনি আরও বলেন, কার নির্দেশে আজ পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে এ বিষয়ে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করব এবং কেন পাঠদান বন্ধ রাখা হলো তার জবাব চাইব। ​​

উল্লেখ্য যে, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাউশির এক চিঠিতে অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলামকে সপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানানো হয়, নজরুল ইসলামের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা অবৈধ ছিল।

​একই চিঠিতে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলামকে কেন শাস্তির আওতায় আনা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password