গো হোম' প্রচারণা স্লোগানে মুখর রোহিঙ্গা শিবির

গো হোম' প্রচারণা স্লোগানে মুখর রোহিঙ্গা শিবির

আজ রবিবার সকালে বর্ষণমুখর অবস্থায় প্রতিটি শিবিরেই সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার কর্মসূচি পালন করে রোহিঙ্গারা। ‘চলো চলো আরাকান চলো’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ৩৪টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে ফিরতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। আগামীকাল সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসের এক দিন আগে আজ সকালে লাখো রোহিঙ্গা তাদের বস্তির বাইরে এসে ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

রোহিঙ্গাদের ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া লাখো নারী-পুরুষের মুখে একটি আওয়াজ ছিল―এবারের বিশ্ব শরণার্থী দিবসেই আমাদের শরণার্থী জীবনের অবসান হওয়া চাই। রোহিঙ্গারা এ আয়োজনে নানা প্ল্যাকার্ড বহন করেছে বিশ্ব বিবেকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তাতে তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট রাইটস, উই ওয়ান্ট টু গো ব্যাক টু আওয়ার মাদারল্যান্ড’সহ আরো অনেক দাবি তুলেছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের ৩৪টি শিবিরেই একযোগে ‘গো হোম’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সাধারণ রোহিঙ্গারাই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে দলে দলে। সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টিও নামে। প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ফিরতে ব্যাকুলতার কথা জানাতে শিবিরের বাইরে এসে সমবেত হয়। সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের বাধা দিয়ে আসছে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী বাহিনী।

এ কারণে শিবিরগুলো দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এবং ফিরতে বাধাদানকারী―এ দুই বিবদমান গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং তাদের দীর্ঘ মেয়াদে এখানে রেখে আখের গোছানোর নেপথ্যে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার কর্মী। সেই সঙ্গে দেশি-বিদেশি এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে খোদ সাধারণ রোহিঙ্গারাই।

‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অনেকেই বলেছেন, দেশি-বিদেশি ইন্ধন না থাকলে অনেক আগেই আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতো। দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জাফর এ বিষয়ে বলেন, "স্বদেশে ফিরতে বাধাদানকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রচণ্ড চাপ উপেক্ষা করেই আমরা আজকের 'গো হোম' কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমরা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রকে আর ভয় পাই না।

আমরা ফিরতে চাই শত বছরের আমাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী বাড়ি-ভিটায়। " এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. শামছুদ্দৌজা নয়ন জানান, শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কথা তারা বিশ্ব বিবেকের কাছে তুলে ধরতেই পারে। রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবির কথা জানিয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)