রাশিয়াকে শাস্তি দিতে গিয়ে বিশ্ববাসীকে শাস্তি দেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন

রাশিয়াকে শাস্তি দিতে গিয়ে বিশ্ববাসীকে শাস্তি দেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, দুই দেশের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের মানুষকে কষ্ট দেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে অন্য দেশের ক্ষতি করা থেকে সরে আসতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বানও জানান, প্রধানমন্ত্রী।

ইউক্রেনে আগ্রাসনের জবাবে রাশিয়াকে শায়েস্তা করতে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো পুরো বিশ্বকে শাস্তির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এ বিষয়টিকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল’ বলেও মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত আটতলা অফিস ভবন উদ্বোধন করছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

একই অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক’ বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাংশন দিয়ে কখনো কোনো দেশ বা জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেটি নিশ্চয়ই এখন দেখতে পাচ্ছেন। কাজেই এই স্যাংশন তুলে দেওয়া। যুদ্ধ যারা করার, করতে থাকেন। কিন্তু পণ্য পরিবহণ বা আমদানি-রপ্তানিটা যাতে সহজভাবে হয় আর সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সরকারপ্রধান বলেন, আমার দেশে আমি সবসময় চেষ্টা করছি, আমাদের যে মাটি, মানুষ আছে, আমরা উৎপাদন বাড়াব।

আমাদের খাদ্যটা যেন আমরা নিজেরা উৎপাদন করে চলতে পারি, সে ব্যবস্থাও করব। সঙ্গে যদি আরও কাউকে সাহায্য করতে পারি, সেটিও করব। কিন্তু উৎপাদন বাড়াতে গেলে আমাদের সার প্রয়োজন, ডিজেল প্রয়োজন। বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন আমাদের। সেটা আমরা পাচ্ছি না। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও লেনদেন একপ্রকার বন্ধ।

খাদ্য ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দেশে দেশে আতঙ্ক জাগাচ্ছে মূল্যস্ফীতি। শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি একটা দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে বিশ্বের মানুষকে শাস্তি দেওয়া... এখান থেকে সরে আসাটা বোধহয় বাঞ্ছনীয় এবং সবাই সেটিই চাইবে। যুদ্ধের প্রভাবে শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সে কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password