অবৈধ জবর দখলকৃত হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা পুনরুদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

অবৈধ জবর দখলকৃত হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা পুনরুদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আজ ১২ জুন (রোববার) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহ্হাব পীরজী হুজুর (রহ:) ওয়াকফ এষ্টেট বাচাঁও কমিটির উদ্যোগে বিগত বিএনপি—জামাত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে মুফতী ফজলুল হক আমিনী গং কর্তৃক অবৈধ জবর দখলকৃত হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা (বড় কাটারা মাদ্রাসা) পুনরুদ্ধারে হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের একাধিক রায় বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহ্হাব পীরজী হুজুর (রহ:) ওয়াকফ এষ্টেট বাচাঁও কমিটির আহ্বায়ক হাফেজ মোঃ ইসমাইল আহমেদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফ এষ্টেটের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা মাওলানা রশিদ আহমেদ, সভাপতি মাওলানা শরীফ আহমেদ, ওয়াকফ এষ্টেট মার্কেটের সেক্রেটারী সেকান্দার জিলানী, সদস্য মাওলানা মোঃ আনোয়ার হোসেন, নেছার উদ্দিন, শরিফ হোসেন, ইসহাক আহমেদ, মাওলানা জুবায়ের আহমেদ, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে হাফেজ মোঃ ইসমাইল আহমেদ বলেন, বিগত বিএনপি—জামাত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে বিগত ০৯/০৬/২০০৩ইং তারিখে জোটের শরীক, মুফতী মোঃ ফজলুল হক আমিনী গং কর্তৃক ঘটিত এশিয়া মহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ, বৃহত্তর ঢাকার সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম (বড় কাটারা) মাদ্রাসা অবৈধ জবর দখল ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহ্হাব পীরজি হুজুর (রহ:) এর পরিবারের উপর ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক, জঘন্যতম নির্যাতন, জুলম ও বর্তমানে আমিনী পুত্র আবুল হাসনাত আমিনী ও জামাতা মাওলানা মোঃ সাইফুল ইসলমের অবৈধ দখল থেকে বড় কাটারা মাদ্রাসাটি মুক্ত করে মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্টের আদেশে নির্দেশিত হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহ্হাব পীরজি হুজুর (রহ:) ওয়াক্ফ এষ্টেট আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার একাধিক রায় বাস্তবায়নে দেশ দরদী, মানবতার প্রতীক, জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় এই সংবাদ সম্মেলন।

তিনি আরো বলেন, মুফতী মোঃ ফজলুল হক আমিনী কর্তৃক বিগত ০৯/০৬/২০০৩ইং তারিখে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপ¦ব্যবহার করে নিজ দলীয় ও পালিত সন্ত্রাসী জঙ্গী বাহিনী দিয়ে পীরজি হুজুর (রহ:) এর পুত্র পীরজাদা আলহাজ্ব মৌলভী রশীদ আহমেদ সাহেব, বাবার প্রতিষ্ঠিত ওয়াক্ফ এষ্টেটের মোতাওয়াল্লী পদে দায়িত্বরত অবস্থায় এষ্টেটের আওতাধীন ঢাকার সর্ব প্রথম ও সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা ও হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহ্হাব পীরজী হুজুর (রহ:) ওয়াক্ফ এষ্টেটের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা মরহুম হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহ্হাব পীরজী হুজুর (রহ:)—এর শত বছরের ব্যবহৃত দোতলা বসত বাড়িটিও অবৈধ জবর দখল করেন।

বাড়িতে বসবাসরত পীরজী হুজুর (রহ:)—এর তিন পুত্রের পরিবারের পর্দানীশিন মহিলা, শিশু, সাত মাসের অন্তস্বত্তা পুত্র বধুকে বেপর্দা অবস্থায় মারধর করে, টেনে হিচড়ে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে দেন। দখলের পর মুফতী আমিনী বাড়িতে থাকা সমস্ত মালামাল গনিমতের মাল বলে ফতুয়া দিয়ে নিজ সন্ত্রাসীদের মাঝে বিলিয়ে দেন। তৎক্ষনাত স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানার ওসির নির্দেশে থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নির্যাতিতদের থানায় ঢুকতে দেননি এবং অভিযোগ তো দূরের কথা কোন কথাও শুনেন নি।

আমার জানামতে ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও কোন স্বনামধন্য পরিবারকে এতো বড় নির্যাতনের শিকার হতে হয় নাই। ঘটনার পর প্রায় সকল প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়াতে বহুদিন পর্যন্ত এই নির্মম নির্যাতনের খবর প্রচার হয়। মানবাধিকার সংস্থা সহ সর্ব সাধারণ জনগন ও সর্বস্তরের আলেম—ওলামাগণ পৃথিবীখ্যাত বুজুর্গ পীরজি হুজুর (রহ:) এর পরিবারের সাথে মুফতী আমিনীর করা নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে লাগাতার প্রতিবাদ বিবৃতি প্রদান করা হয়।

এতো কিছু হওয়া স্বত্বেও তৎকালীন বিএনপি—জামাত, চার দলীয় জোট সরকার কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা নেন নাই, উল্টো মুফতী আমিনীকে অবৈধ জবর দখল টিকিয়ে রাখতে সর্বাত্বক সহযোগিতা করেছেন। মুফতী মোঃ ফজলুল হক আমিনী ক্ষমতার অপ¦ব্যবহার করে পীরজি হুজুর (রহ:)—এর পরিবারের নির্যাতিত সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর ঘর—বাড়ি ছাড়া করে পালিয়ে জীবন যাপনে বাধ্য করেছেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে এপ্রিল/২০১১ইং সনে ক্রাইম রিপোর্টাসে আবারও সংবাদ সম্মেলন করি যাহা দেশের সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে প্রচারে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা পাওয়ায় আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। ২০১২ইং সনে মুফতী আমিনী সাহেবের মৃত্যুর পর আবুল হাসনাত আমিনী ও জামাতা মাওলানা মোঃ সাইফুল ইসলাম দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে বড় কাটারা মাদ্রাসার অবৈধ দখল অদ্যাবধি টিকিয়ে রেখেছেন।

হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোট থেকে বারবার হযরত মাওলানা আব্দুল ওহাহ্হাব পীরজি হুজুর (রহ:) ওয়াক্ফ এষ্টেট আমার বরাবরে বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া স্বত্ত্বেও মাননীয় ওয়াক্ফ প্রসাশক মহোদয় কোনো প্রকার আইনী ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো দখলদারদের পক্ষে কাজ করছেন। এষ্টেটের অন্যান্য জায়গা—সম্পত্তিগুলো অবৈধ দখলে আবুল হাসনাত আমিনী গং কে সাহায্য করছেন। বর্তমানে হাইকোর্টের রায় অমান্য করিয়া সম্পূর্ণ বে—আইনীভাবে এষ্টেটের আওতাধীন ৫৯, আর.কে মিশন রোডে অবস্থিত বাড়ীটি দখলে আবুল হাসনাত আমিনী গং কে ওয়াক্ফ অফিস মরিয়া হয়ে সাহায্য করছেন।

হাফেজ মোঃ ইসমাইল আহমেদ বলেন আরো বলেন, বর্তমানে আমরা বিচারকের আসনে থাকা মাননীয় ওয়াক্ফ প্রশাসক, উপ—ওয়াক্ফ প্রশাসক ও সহকারী ওয়াক্ফ প্রশাসকগণের বরাবরে গত ২৫/১০/২০২১ইং তারিখে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে হাইকোর্টের রীট পিটিশন নং—৯৯৬৬/২০১৬ মামলার প্রদত্ত ০৭/১১/২০১৭ইং তারিখের আদেশ মোতাবেক মোতাওয়াল্লী নিয়োগ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একটি লিখিত দরখাস্ত দাখিল করি।

নিষ্পত্তি দরখাস্ত দাখিলের ১৫ (পনের) দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মাননীয় প্রশাসক মহোদয়গণ কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন নাই। উল্টো হাইকোর্টের আদেশের বিপরীতে আমাদের হয়রানী করায় আমরা হতাশ হয়ে আজ এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ও আপনাদের সহযোগীতায় মানবিক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করছি।

মন্তব্যসমূহ (০)