ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে অনেকটা বিপদে পড়েছে ভারত। ইতোমধ্যে অন্তত ১৫টি দেশ ভারতের ওপর নিন্দা জানিয়েছে। এই ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলছে বিক্ষোভ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক, ইরান, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাহরাইন, মালদ্বীপ, লিবিয়া, তুর্কিয়ে এবং ইন্দোনেশিয়া সরকারিভাবে বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের জেরে ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক, ইরান, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাহরাইন, মালদ্বীপ, লিবিয়া, তুর্কিয়ে এবং ইন্দোনেশিয়া সরকারিভাবে বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের জেরে ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। কাতার দাবি করেছে, ভারত সরকারকে এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অভিযোগ করেছেন, ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সময় সংখ্যালঘু মুসলমানরা বিপন্ন।

কেবল এ কয়টি দেশই নয়, বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। নানা ধরনের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি আরব দেশ ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া ভাষায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কুয়েতে শুরু হয়েছে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক। বিভিন্ন মার্কেট থেকে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এদিকে, বিজেপির দুই নেতা-নেত্রীর অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া দ্ব্যর্থহীনভাবে দুই ভারতীয় রাজনীতিকের অবমাননাকর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারতীয় রাজনীতিকদের অবমাননাকর বক্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি তারা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে জানিয়ে দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামভীতি অবসানের পাশাপাশি শান্তি-স্থিতিশীলতার স্বার্থে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে একসঙ্গে কাজ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানায় মালয়েশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তেউকু ফাইজাস্যাহ জানান, ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।

এসময় তার কাছে মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য সম্পর্কে অভিযোগ দায়ের করেছে সরকার। এক বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মহানবীর বিরুদ্ধে দুই ভারতীয় রাজনীতিবি দ্বারা করা অগ্রহণযোগ্য অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। বিভিন্ন দেশের উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ভারতীয় কূটনীতিকরা এই দেশগুলোকে কূটনৈতিকভাবে শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে, দেশটির বিরোধীদলগুলো বিজেপির এই দুই নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। একইসঙ্গে বিজেপিকে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ করেছে।

তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই দুই নেতার টুইট ও মন্তব্য সরকারের মতামতকে প্রতিফলিত করে না। ভারতের আলোচিত জ্ঞানবাপী মসজিদ ইস্যুতে গত সপ্তাহে এক টেলিভিশন টকশোতে মহানবী (সা.) প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য করেন নূপুর শর্মা। এ ঘটনায় কানপুরের মুসলিমদের মধ্যে বিক্ষোভ তৈরি হয়। এছাড়া নবীকে নিয়ে নাভিন কুমার জিন্দালও টুইটারে পোস্ট করেন।

এতে মুসলিমদের মধ্যে আরও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তিনি এই টুইট পরবর্তীতে মুছে দেন। এর জেরে গত শুক্রবারে কানপুরের একপক্ষ স্থানীয় বাজার বন্ধ করার আহ্বান জানালে অপরপক্ষ পাল্টা অবস্থান নেয়। এর পরে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়। এর মধ্যে ২০ জন পুলিশ সদস্য। ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় পুলিশ ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, মামলা দায়ের করেছে ১ হাজার ৫০০ লোকের বিরুদ্ধে।

মন্তব্যসমূহ (০)