নরসিংদীতে স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে নিলেন প্রধান শিক্ষক

নরসিংদীতে স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে নিলেন প্রধান শিক্ষক

নরসিংদীর বেলাবতে স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিলকিছ আক্তার উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের ৫৪নং গোশালাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জানা যায়, এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম। বেলাব সোনালী ব্যাংক শাখায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষর সংবলিত একটি হিসাব নম্বর রয়েছে। ওই হিসাব নম্বরের টাকা উত্তোলন হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিছ আক্তার ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমের যৌথ স্বাক্ষরে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম সোনালী ব্যাংক থেকে ওই হিসাবের ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দেখতে পান, তার স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক বিলকিছ বেগম গত ২৫ এপ্রিল ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক হলে সভাপতি সোনালী ব্যাংকের বেলাব শাখার ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলামকে তার অনুপস্থিতিতে যাতে লেনদেন না করা হয় সেজন্য মৌখিকভাবে অবগত করেন।

পরবর্তীতে গত ৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় প্রধান শিক্ষক বিলকিছ বেগম সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে দুই লাখ ২২ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে ব্যাংকে যান টাকা উত্তোলনের জন্য। এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের সভাপতি খোরশেদ আলমকে জানালে প্রধান শিক্ষক চেকের টাকা উত্তোলন করতে না পেরে দ্রুত চলে যান।

সোনালী ব্যাংক বেলাব শাখার শাখা ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, স্বাক্ষরটি আমি যাছাই করেছি। কম্পিউটারের স্বাক্ষরের সঙ্গে চেকের স্বাক্ষরের মিল আছে। স্বাক্ষরটি তার নিজের আমার যা মনে হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে।

অভিযোগকারী বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক বিলকিছ বেগম আমাকে না জানিয়ে চেকে আমার স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করেছেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্ত করলেই তার বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়বে।

প্রধান শিক্ষক বিলকিছ বেগম তার বিরুদ্ধে চেকে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো স্বাক্ষর জাল করেনি। সভাপতি নিজেই স্বাক্ষর দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলেই সভাপতিকে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করায় সভাপতি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে আমার কাছে ঘুষ দাবি করে আসছিলেন। আমি ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন শাহিন বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টির তদন্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট এলে বলা যাবে কী ঘটেছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password