শিক্ষার্থীর ২০ হাজার টাকা কেড়ে নিল ছাত্রলীগ নেতা

শিক্ষার্থীর ২০ হাজার টাকা কেড়ে নিল ছাত্রলীগ নেতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর গলায় চাকু ধরে ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের ভাষ্কর সাহার রুমে তাকে মারধর ও ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় রাত ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সামছুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও মতিহার হলের ১৫৯ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ভাস্কর শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগে সামছুল ইসলাম জানান, তিনি মতিহার হলের ১৫৯ নং রুমের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মোবাইল সার্ভিসিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং পরিবার চালান। গত ১৫ই আগস্ট মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা তাকে ফোন দিয়ে দেখা করার কথা বলে। তাঁর কাছে গেলে সে চাঁদা দাবি করে। তারপর টাকার জন্য প্রতিনিয়ত ফোন দেয় এবং মানসিকভাবে টর্চার করে।

অর্থ দিতে অক্ষম হওয়ায় আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় ভাস্কর সাহার রুমে ডেকে নিয়ে তাঁর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেয় এবং আরো ৬ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের জানানোর কথা বললে তাঁকে রড এবং স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়কভাবে মারা হয়। এছাড়া কাউকে জানালে আবরারের যে অবস্থা হয়েছে সে অবস্থা হবে বলে হুমকি দেয়। রাত ১১ টার মধ্যে আরো ৬ হাজার টাকা না দিলে হল থেকে বের করার হুমকি দেয়।

এমতাবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ভাস্কর সাহা বলেন, এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসাতে এমন চক্রান্ত করেছে। এ বিষয়ে আমার কাছে একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে। আমি ইতিমধ্যে অডিওটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ভাস্করের সাথে কথা হয়েছে আমার। ভাস্কর বলছে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

এখন আমরা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নুর বলেন, এ ঘটনায় আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করব। শুনেছি ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইলে সার্ভিসিং করে নিজের এবং পাঁচ ভাইয়ের খরচ চালায়। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password