জেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ

জেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টার মন্ডলীর সদস্য, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক, বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর বার বার নির্বাচিত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর সাবেক সম্পাদক/সভাপতি গরীবের আইনজীবী খ্যাত সর্বজন শ্রদ্ধেয় জেষ্ঠ্য আইজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার বুধবার সকাল আনুঃ সোয়া ৮টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

(ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩বছর। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মেরুদন্ডের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন আবদুল বাসেত মজুমদার। গত ৩০সেপ্টেম্বর তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (২৫ অক্টোবর) তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বুধবার বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাযা শেষে তাঁকে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। কুমিল্লার নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে বলে তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা জানিয়েছেন।

তাঁর মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য এডভোকেট শহীদুল ইসলাম টিটু ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জিয়াউল হক চৌধুরী বাবু শোক প্রকাশসহ শোকসন্তপ্তÍ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ১৯৩৮সালের ১জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম (বর্তমানে লালমাই) উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন আবদুল বাগেু মজুমদার। বাবা আব্দুল আজিজ মজুমদার, মা জোলেখা বিবি।

স্থানীয় হরিচর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) ও বিএ পাস করেন তিনি। এরপর প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। নির্ধারিত বেতন-ভাতাহীন কঠিন পথযুক্ত আইন পেশায় বিচার প্রার্থীদের পাশে দাঁড়ান একাধারের ৫০বছরের বেশি সময় ধরে। ছিলেন জুনিয়র আইনজীবীবান্ধব নেতা। তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা আদালত পাড়ার কমবেশি সবাই করেন।

ভালো আইনজীবীর পাশাপাশি দক্ষ নেতৃত্বও ছিলো তাঁর মধ্যে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন প্রবীণ এই আইনজীবী। শুধু আইনজীবীই নন, রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত ছিলেন সমানতালে। মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক।

দুস্থ আইনজীবীদের জন্য নিজের নামে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেন। যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতিতে এই ফান্ড থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ পেশাজীবনে ২০হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন তিনি। গরিবের আইনজীবী হিসেবে খ্যাত আবদুল বাসেত মজুমদার আইন পেশায় ৫৬বছর পার করেছেন। এদিকে বাংলাদেশের এই প্রবীণ জেষ্ঠ্য আইনজীবীর মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password