নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এক সন্তানের জননীকে বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী এবং তার পরিবার।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউপির বাঁশবাড়িয়া গ্রামের (ত্যালোঙ্গাপাড়া) মোড়ে ভূক্তভোগীর নিজ বাড়িতে স্থানীয় প্রতিবেশী আয়েন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভূক্তভোগীর মা রেহেনা, ভাই আয়েন উদ্দিন এবং স্থানীয় প্রতিবেশী সবুজ, জাহিদুল ইসলাম, বুলেট, আজিত, সুজন এবং আলাউদ্দিন ওরফে আলাই প্রমূখ। বক্তারা বলেন, গত প্রায় ৭/৮ বছর আগে বগুড়ার মোকামতলা (জুমারবাড়ি) এলাকার আজাদুল ইসলামের ছেলে ইমন (২৪) এর সঙ্গে আজিজের গার্মেন্টসকর্মী ভূক্তভোগী মেয়ের বিয়ে হয় । বিয়ের পর থেকেই ভূক্তভোগী তার পিতা- মাতাসহ স্বামী এবং ৪ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান নিয়ে ঢাকার সাভারে একই বাসাতে বসবাস করতেন । ওই বাসাতে থাকাবস্থায় চাকুরির সুবাদে মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের তুড়ুকগ্রাম গ্রামের আব্দুল মাজেদের অবিবাহিত বখাটে ছেলে রবিউল ইসলামের সাথে তার পরিচয় হয়।

তারপর থেকে রবিউল এবং তার বাবা-মা সহ তারা একই বাসায় থাকতেন। একই বাসায় থেকে ভূক্তভোগী, ভূক্তভোগীর স্বামী ইমন এবং বখাটে যুবক রবিউলসহ তাদের বাবা-মা সকলে গার্মেন্টসে চাকুরী করতেন। এমতাবস্থায় বখাটে যুবক রবিউল এক সন্তানের জননী ভূক্তভোগীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে, আপত্তিকর অবস্থার বেশকিছু ছবি দেখিয়ে জিম্মি করে একাধিকবার ধর্ষন করাসহ কৌশলে তার চাকুরির প্রতি মাসের বেতনের টাকা এবং গচ্ছিত অবস্থায় রাখা স্বর্ণালঙ্কারগুলোও আত্মস্মাৎ করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ভূক্তভোগীর স্বামী ইমন তাকে রেখে অন্যত্র চলে যান এবং সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ইমনের জন্য ভূক্তভোগীর সংসার ভেঙ্গে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ভূক্তভোগী রবিউলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এরপর রবিউল স্ব-পরিবারে ঢাকা থেকে তাদের নিজ এলাকায় পালিয়ে চলে আসার সংবাদ পেয়ে গত ১০ এপ্রিল ভূক্তভোগী তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর গত ২১ এপ্রিল রবিউলের বাসায় অবস্থান নিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। পরে স্থানীয় মাতবররা সু- কৌশলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এক গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ভূক্তভোগীকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

বর্তমানে ন্যায় বিচারের আশায় দ্বারে- দ্বারে ঘুরছেন অসহায় মেয়েটি। অথচ, বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন ওই এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোকজন। ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন তারা। এ ঘটনায় জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এমনকি এ ঘটনায় প্রতিকার পেতে মামলা দায়ের করা থেকে ভূক্তভোগীকে বিরত রাখতে বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এছাড়াও বক্তারা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভনে জিম্মি করে একাধিকবার ধর্ষনকারী যেন কোনোভাবেই ছাড়া না পায় এবং তাকে যেন অতি দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার ব্যাবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে দেশ ও আইনের কাছে জোর দাবি জানান তারা।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password