নওগাঁয় শীত ও কুয়াশার মধ্যেও ইরি বোরো ধান রোপণ শুরু

নওগাঁয় শীত ও কুয়াশার মধ্যেও ইরি বোরো ধান রোপণ শুরু

নওগাঁয় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো রোপন। প্রচণ্ড কুয়াশা ও ঠাণ্ডায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। শ্রমিক সংকটে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। ঠাণ্ডায় জমিতে চারা রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকটে কৌশলে কৃষকদের পকেট কাটছে ব্যবসায়িরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে ইরিবোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের। শস্য ভাণ্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁয় প্রচন্ড শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে চলছে ইরি-বোরো রোপণ। জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুত ও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। কাটারিভোগ, জিরাশাইল, ব্রিআর-২৮, সুফলতা ও হাইব্রিড জাতের ধানের চারা রোপন করা হচ্ছে। এ বছর প্রচণ্ড কুয়াশা ও ঠাণ্ডায় বোরো আবাদে জমিতে চারা রোপণে প্রায় ১৫ দিন দেরি হয়েছে। আবার শ্রমিক সংকটে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকরা জানান- কৃষি কার্ড দিয়ে ডিলারের কাছে সরকারি মূল্যে স্বল্প সার পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। যেখানে একই সময়ে জমিতে সার দিতে হবে, সেখানে কয়েক ধাপে ডিলারের কাছ থেকে সার কিনতে হবে। যা দিতে কোনো কাজেই আসবে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়িদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে। এবছর কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় চাষাবাদে বেড়েছে খরচ। প্রান্তিক কৃষকরা ধারদেনা করে আবাদের পর ফসল ঘরে উঠার আগেই স্বল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য হোন। তবে মৌসুমের শুরুতে অন্তত ১২শ টাকা মন দাম পেলে লাভবান হবেন তারা।
মান্দা উপজেলার ভারশোঁ গ্রামের কৃষক রাব্বানী বলেন- অতিররিক্ত শীত ও কুয়াশায় চারা হলুদ হয়ে গেছে। কিছু চারা নষ্ট হয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে জমিতে চারা রোপণ করতে ১৫ দিনের মতো দেরি হয়েছে। আবার শ্রমিক সংকট থাকায় বিঘাতে ৩০০ টাকা বেশি মজুরি দিয়ে চারা রোপণ করতে হয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন- জেলায় ১০ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা রোপণ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৩০ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চারা রোপণে কোনো প্রভাব পড়বে না। এছাড়া কৃষকদের আবহাওয়া বুঝে চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন- চলতি মৌসুমে রাসায়নিক সারের কোন ধরনের সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের সরবরাহ রয়েছে। কোন ধরণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় তার জন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password