নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরমান্দার রঘুনাথ জিউ মন্দিরে রাম নবমী উপলক্ষে হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থীর সমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে মন্দিরের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হলে দিনভর সেখানে ভক্তদের ঢল নামে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত এই মন্দির প্রাঙ্গণে কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ, ভোগ নিবেদন ও পূজা-অর্চনায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ভক্তদের পদচারণায় পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসবকে ঘিরে মন্দির সংলগ্ন ঠাকুরমান্দা বাজারে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলার, যা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।
দুপুরে রাম নবমীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। এছাড়াও মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন, মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গণিসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় মন্দিরের পূর্ব পাশে প্রবাহিত শিবনদ ছিল ভক্তদের পবিত্র স্নানের স্থান। অতীতে ভক্তরা নদীতে গঙ্গাস্নান করে পদ্মপাতা মাথায় নিয়ে ঠাকুর দর্শনে যেতেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় নদীর সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ভক্তরা মন্দির সংলগ্ন পুকুরে স্নান করে ভোগের মিষ্টান্ন নিয়ে প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ প্রামাণিক জানান, ভোরে পূজা-অর্চনার পর মন্দিরের প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হয় এবং দিনব্যাপী পদাবলী কীর্তন ও ভজন সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্দির কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন এবং পুরো মন্দির এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আগামী ৪ এপ্রিল লক্ষণ ভোগের মধ্য দিয়ে ৯ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন