আদালতে নিজের এমপি পদ চেয়ে করা পাপুলের রিট খারিজ

বহুল আলোচিত মানব ও অর্থপাচারের দায়ে কুয়েতের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত লক্ষীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের এমপি পদ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার (৮ জুন) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। এর আগে গতকাল লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়। গতকাল শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত মার্চ মাসে এই আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচন তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শহিদ ইসলামের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং ওই আসনের বাসিন্দা শহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন গত মার্চে ওই রিট করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সংসদ বিষয়ক সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে রিটে বিবাদী করা হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে কুয়েতের একটি আদালতের রায়ের পর পাপুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংসদ সচিবালয়। লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা করে ২১ জুন ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, ঘুষ লেনদেনের মামলায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ শহিদ ইসলামকে গত ২৮শে জানুয়ারি সাজা দেন কুয়েতের ফৌজদারি আদালত।

বিচারক রায়ে এই সাংসদকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের পাশাপাশি ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার বা ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাংসদের বিদেশের মাটিতে ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। গত বছরের ৬ই জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে আটক করা হয় শহিদকে। আটকের সাড়ে ৭ মাস আর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে ৩ মাসের মাথায় দন্ডিত হন তিনি।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password