কোম্পানীগঞ্জে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের ৭ জন গ্রেফতার

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন  সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজের সামনে মটর সাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল ছিনতাইকারী সহ চক্রের সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার দক্ষিন বুড়দেও গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সজল আহমদ (২৪), এসএমপি শাহপরান থানার ইসলামপুর এলাকার মৃত বদরুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম রায়হান (২০), এসএমপি শাহপরান থানাধীন সুরমা গেট এলাকার বশির আহমদের ছেলে আল আমিন হোসেন শিমুল (২০), একই এলাকার আব্দুল মোতালেবের ছেলে জিহাদ (২০), কানাইঘাট থানাধীন ঢালাইচর গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে আলী হোসেন জনি (২৪), শিবনগর গ্রামের এবাদত রহমানের ছেলে মারুফ আহমদ (২৭), শ্রীপুর গ্রামের মৃত কুতুব আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল। 

গত ৩০ মে রবিবার বিকাল ৫টা থেকে ৩১ মে সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর), কোম্পানীগঞ্জ থানা ও কানাইঘাট থানার কয়েকটি টিম কানাইঘাট থানা, এসএমপি এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে গত ১০ মে সন্ধার সময় কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন দয়ারবাজার পয়েন্ট হতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক কোম্পানীগঞ্জ কালিবাড়ী গ্রামের বিলাল আহমদ কে এক ছদ্দেশী ছিনতাইকারী ভাড়ায় বুড়িডহর গ্রামে যাওয়ার জন্য ৩৫০ টাকায় চুক্তি করে। রাত সাড়ে সাত ঘটিকার সময় সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজের সামনে পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাত দুইজন ছিনতাইকারী রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়, পরে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী সহ অজ্ঞাত দুইজন ছুরি দিয়ে প্রাননাশের ভয় দেখিয়ে বিলাল আহমদের মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

সাম্প্রতিককালে কোম্পানীগঞ্জে  এরকম যাত্রীবেশী কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম উদ্বেগ প্রকাশ করে ছিনতাইকারী চক্র কে গ্রেফতারের জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা দেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল-কে। পুলিশ সুপার এর নির্দেশে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা ছিনতাইকারী চক্র কে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের অভিযানে নামে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ মে রবিবার বিকাল পাঁচ ঘটিকা থেকে ৩১ মে সোমবার দুপুর দুই ঘটিকা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর) ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই সুকমল ভট্টাচার্য, এয়াকুব হোসেন, কানাইঘাট থানার এএসআই শুভাশীষ চৌধুরীসহ কয়েকটি টিম কানাইঘাট থানা, এসএমপি এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে উল্লেখিত আসামীদের গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে সজল আহমদ ঘটনার সময় সরাসরি ছিনতাই কাজে অংশ গ্রহন করে। অপর আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে ছিনতাইকৃত মোটর সাইকেল একে অপরে নিকট বিক্রি করেছে। 

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল সিলেট ভয়েস-কে জানান, শিবনগর গ্রামের এবাদত রহমানের ছেলে মারুফ আহমদ (২৭) এর হেফাজত থেকে ভিকটিমের ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আসামী আল আমিন শিমুলের তথ্যের ভিত্তিতে অপর একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে যেটি আপাতত চোরাই মোটরসাইকেল মর্মে মনে হচ্ছে। ভিকটিম বিলালের অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় দন্ড বিধি ৩৯৪,৪১১,৪১৪,৩৪ ধারার মামলা রুজু হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামী সজল এর বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানা, এসএমপি কোতয়ালী ও এয়ারপোর্ট থানায় ইতিপূর্বে ছিনতাই (দ্রুত বিচার) সহ মোট ৮ টি মামলা রয়েছে। আসামী রায়হানের বিরুদ্ধে এসএমপি শাহপরান থানায় ২ টি দ্রুত বিচার এবং অপর একটি হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে। আসামী দুলালের বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট, হত্যা চেষ্টা সহ মোট ৪ টি মামলা রয়েছে।

আসামীদের ইতিমধ্যে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানান ওসি কেএম নজরুল। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো: লুৎফর রহমান জানান, সাম্প্রতিককালে কোম্পানীগঞ্জ সহ বেশ কিছু এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সুপার মহোদয়ের ক্লোজ মনিটরিংয়ে কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট থানা এবং ডিবির কয়েকটি টিম বিরামহীন অভিযানে মূল ছিনতাইকারী সহ চক্রের সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ২ টি মটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যান্য ছিনতাই কারী গ্রেফতার সহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে জেলা পুলিশ।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password