নওগাঁর মান্দায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দরে ডিজেল বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ফলে সেচ পাম্প মালিক ও সাধারণ কৃষকরা জিম্মি হয়ে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের দক্ষিণ মৈনম গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র মণ্ডল জ্বালানি তেল বিক্রির নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানী তেল ডিজেল বিক্রয় করে আসছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে ডিজেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি লিটার ১০১ টাকা হলেও ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র মণ্ডল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রয় করেন। বর্তমানে দেশে জ্বালানী তেলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেকে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত মূল্যে তার নিকট থেকে ডিজেল ক্রয় করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে ওই ব্যবসায়ী তেল নেই বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মুদি ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র মণ্ডল ১১০ টাকা দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রয় করছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র মণ্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে তেল আনতে খরচ বেশি হচ্ছে। কম দামে ডিজেল বিক্রয় করলে আমার লোকসান হবে, সেকারনেই ১১০ টাকা দরে তেল বিক্রয় করছি। উপজেলার রামপুর গ্রামের কৃষক ফারুক বলেন, জমিতে পানি সেচের জন্য আমি নির্মল চন্দ্রের দোকানে তেল নিতে এসেছি। আমাকে প্রতি লিটার ১১০টাকা মূল্যে ১০ লিটার ডিজেল দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, এমনিতেই সারের দাম বেশি, তার ওপর যদি তেলের দামও বেশি দিতে হয়, তবে আমাদের চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
এবিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়ের নিদর্শনা মোতাবেক সোমবার রাতে দক্ষিণ মৈনম র্নিমলের তেলের দোকানে অতিরিক্ত মজুত আছে কিনা তা পরিদর্শনে যাই এবং কি পরিমানে মজুত আছে তা পুলিশ সুপার মহোদয়কে রাতেই অবগত করি। দুপুর বেলা মৌখিক ভাবে জানতে পারি ঐ দোকানে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি করছে। দুপুরেই নির্মলের দোকানে গেলে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন এবং সরকারি নির্ধারিত দামে বিক্রি করার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন আর কি পরিমানে তেল মজুদ আছে বিষয়টি জেনে সেখান থেকে চলে আসি।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। মান্দা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন