সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের করোনা ভ্যাক্সিন তথ্যের সফটকপি হস্তান্তর

সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের করোনা ভ্যাক্সিন তথ্যের সফটকপি হস্তান্তর

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রায় ২ বছর বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিশ্চিত করার উপর ভিত্তি করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বাগ্রে খুলে দিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর সংগৃহীত অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

তবে এক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত করেজের শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজ প্রশাসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার ফলে ইউজিসির সংগৃহীত তালিকায় ঠাঁই হয়নি সাত কলেজে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর। যার ফলে করোনার টিকা প্রদানের শুরু থেকেই সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা ছিটকে পড়ে।

অবশ্য সম্প্রতি সরকার ঘোষিত গণটিকা কার্যক্রমে ১৮ বছর বয়সীদের টিকার আওতায় আনার ঘোষণায় সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা কিছুটা আশার আলো দেখলেও পরবর্তীতে সর্বনিম্ন ২৫ বছর বয়সীদের টিকা প্রদানের সিদ্ধান্তে আবারো অনিশ্চয়তার তৈরি হয়।

এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীরা বলছে, করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করতে স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের চেষ্টার বিকল্প কিছু নেই। যেহেতু এই টিকা প্রদানের উপর ভিত্তি করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনতে প্রশাসনকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংগৃহীত ডাটাবেজ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সায়মা নাহার বলেন, সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো দেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সাত কলেজে যদি আগে থেকেই টিকা নিশ্চিত করা না হয় তবে পরবর্তী কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাবে। আমরা চাই না সেশনজট আমাদের আরো ক্ষতি হোক।

এছাড়াও সম্প্রতি ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার নির্দেশনা মোতাবেক সকল শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ১৮ বছরের উর্ধ্বে সকল শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী টিকা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো। শিক্ষকরা অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ কল্পে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নির্ধারিত টিকা কেন্দ্র সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে করোনার টিকা গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করা হল।

অধ্যাপক মহসিন কবির অধ্যক্ষ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যাপক মহসিন কবিবের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের পক্ষে আমি ও সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যক্ষ বন্ধু প্রফেসর সাবিকুন নাহার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বন্ধুভ্রাতা অধ্যাপক খুরশীদ আলম ভাই এবং সাবিকুন ম্যামের স্কুলবন্ধু অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সাথে শিক্ষার্থীদের করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

রাস্তায় জ্যাম থাকার কারণে পৌঁছার পূর্বমুহূর্তে মহাপরিচালক খুরশীদ ভাই জরুরি মিটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য বেরিয়ে যান। তাদের টেলিফোনে কথা হয়, আমাদের সেব্রিনা ম্যামের সাথে কথা বলতে বলেন।

আমাদের সাত কলেজের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থী যাদের বয়স ১৮ হয়নি এবং অনার্সের যাদের এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোনো তথ্যের ভিত্তিতে করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাই এবং আমাদের সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের তথ্যের সফটকপি হস্তান্তর করি।

তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত ১৮ বছরের নিচে ভ্যাকসিন দেয়া এখনও ক্লিনিক্যালি এলাউ হয় নি, তাছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ভ্যাকসিন প্রদান অসম্ভব। আমাদের আবেদন গ্রহণ করলেন এবং জাতীয় কমিটিতে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন বলে আশ্বাস দিলেন।

পরামর্শ দিলেন ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলকে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে। ১৮ বছরের নিচে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যাবে কীনা এটি দ্রুত নিশ্চিত হয়ে আশা করি শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে যাবে।। আমাদের সাথে ছিলেন আমার কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোতালিব হোসেন ও বদরুন্নেসা কলেজের দুজন সহকর্মী। তিনি সকলের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান করেন। সবার সুস্থতা কামনা করেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password