চরফ্যাশনে ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

চরফ্যাশনে ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

ভোলার চরফ্যাশনের ফরিদাবাদ লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক শাহাদাত হোসেন লোকমানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ, গত ১৮ মে রাত ১০টায় নুরাবাদ ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কালু মাঝির মাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়েকে (১৬ তার নিজ বাড়ির কক্ষে আটকে এমন নির্যাতন করেছে। গুরুতর অবস্থায তাকে বরিশাল বেলভিউ মেডিকেল সার্ভিসেস প্রা. লি. এ উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ২৬ মে বাড়ি ফিরে ওই ছাত্রীর বাবা এমন অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষকের প্ররোচণায় তিন মাস পূর্বে চর মাদ্রাজ ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের খালেক মোল্লার ছেলে আকতারের সাথে আমাকে বাল্যবিয়ে দেয়। বিয়ের সময় শর্ত ছিল আমার দাখিল পরীক্ষার পর আমাকে তুলে নেওয়া হবে। হঠাৎ গত ১৮ মে রাত ১০টায় মাদ্রাসার শিক্ষক শাহাদাত হোসেন লোকমান, মাদ্রাসার আয়া রুমা, ঘটক আল আমিন ও স্বামী আকতার আমাদের বাড়িতে আসে। কিছু না বোঝার আগে শিক্ষক শাহাদাত হোসেন লোকমান আমার সাথে কথা আছে বলে আমার বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।

একটি রুমের মধ্যে আটকে শিক্ষক লোকমান আমাকে এই মুহূর্তে স্বামী আকতারের সাথে শশুরবাড়ি চলে যেতে চাপপ্রয়োগ করে। আমি তার হাতে-পায়ে ধরে দাখিল পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলি। কিন্তু কিছুতেই তারা ৪ জন রাজি না হয়ে আমার হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। নির্যাতনের আঘাতে আমার সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষতসহ নিচের চারটি দাঁত পড়ে যায় ও বাম চোখ প্রচণ্ড জখম হয়। আমার চিৎকারে বাবা-মাসহ লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।

শিক্ষার্থীর বাবা কালু মাঝি বলেন, ঘটনার সাথে সাথে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য দুলারহাট থানা আসি। থানার অফিসার ইনচার্জ আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরদিন সকালে আমরা বরিশাল চলে যাই। এখন মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার মেয়েকে যারা এমন অমানুষিক নির্যাতন করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার চাই। অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক শাহাদাত হোসেন লোকমান বলেন, আমরা ছেলেকে শুধু মেয়ের বাড়িতে দিয়ে এসেছি। এরপর কি হয়েছে তা কিছুই জানি না । আমি মেয়েকে কোনো নির্যাতন করিনি। দুলার হাট থানার অফিসার ইনচার্জ মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। বর্তমানে আমি থানার বাহিরে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)