বর্ষবরণে শ্লীলতাহানির বিচার ৭ বছর ধরে ঝুলে আছে

বর্ষবরণে শ্লীলতাহানির বিচার ৭ বছর ধরে ঝুলে আছে

২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করার মামলার বিচার কাজ সাত বছরেও হয়নি। ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের খুঁজে না পাওয়া এবং সাক্ষীরা আদালতে হাজির না হওয়ায় আলোচিত এ মামলাটি সাত বছর ধরে ঝুলে আছে।

ফলে রহস্য উন্মোচন হলো না প্রকৃত ঘটনার। জানা গেছে, ওই ঘটনায় আসামিদের খুঁজে না পেয়ে ঘটনার পরের বছর কামাল নামে এক ব্যবসায়ীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। পরের বছর জুন মাসে কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষীর জন্য দিন ঠিক করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের প্রায় ৫ বছর পর ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে ৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। বাকি সাক্ষীরা আদালতে হাজির না হওয়া সাত বছর ধরে ঝুলে আছে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৯ জুন কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষীর জন্য দিন ঠিক করেন আদালত। এর দুই বছর পর ২০১৯ সালের ১৭ জুন আদালতে সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ ও জনৈক তুহিন শান্তিদান আদালতে সাক্ষ্য দেন।

বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এ মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলছে। গত ৬ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার দাস আদালতে সাক্ষ্য দেন। আগামী ১৮ মে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। মামলার আসামি কামাল জামিনে রয়েছেন। এ বিষয়ে কামালের আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে মামলার আসামি কামাল জড়িত নয়।

এ মামলায় তাকে জোর করে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনায় ৮ জন জড়িত ছিল। আসামি কামাল একজন সাধারণ মানুষ। মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর মাত্র তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামি কামাল এ মামলায় খালাস পাবে-এ আমার আশা। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সাক্ষীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরও তারা সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসছে না।

পুলিশের উচিত সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করানো। সাক্ষীরা আদালতে হাজির হলে মামলাটি অতিদ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার জন্য আমরা চেষ্টা করবো। ২০১৫ সালে বর্ষবরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বেশ কয়েকজন নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়।

এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এরপর ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ডিবি পুলিশর এসআই দীপক কুমার দাস। প্রতিবেদনে আসামি খুঁজে না পাওয়ার কথা বলা হয়।

পরে ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার। এরপর পরের বছর ২০১৬ সালে ১৫ ডিসেম্বর পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র কামালকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password