পদ্মার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পদ্মার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে ইছামতি নদী ড্রেজিং, পদ্মার বাঁ পাশের তীর সংরক্ষণ এবং নবাবগঞ্জের সোনাবাজু বেড়িবাঁধ প্রকল্প সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। আজ রবিবার, ১৭ মে, বিকেলে, পরিদর্শনকালে, পদ্মার ভাঙন রোধে তৈরি ব্লকের গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে, তিনটি ব্লকে স্বাক্ষর দিয়ে তা বুয়েটে পরীক্ষার (টেস্ট) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব দলের ঢাকা জেলার সিনিয়র সহসভাপতি আবুল হাসেম বেপারী এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "পদ্মার ভাঙন রোধে যে ব্লকগুলো তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলোর প্রাক্কলিত অনুপাত (এস্টিমেটের রেশিও) নিয়ে আমার কিছুটা সন্দেহ হয়েছে। রেশিও ঠিক না থাকলে পানির আঘাত থেকে পাড় রক্ষা করার ক্ষমতা এই বোল্ডার বা ব্লকের থাকবে না। তাই আমি নিজ দায়িত্বে তিনটি ব্লকে সিগনেচার দিয়ে গেলাম। এগুলো বুয়েটের (BUET) টেস্টের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। এখানে প্রায় হাজার হাজার ব্লক তৈরি করা হচ্ছে, যার মান নিশ্চিত করা জরুরি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "পদ্মার ভাঙন রোধে চলমান তিনটি প্রজেক্টের কাজ আমি সরজমিনে দেখলাম। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কাজের মান নিশ্চিত করতেই এই ঝটিকা পরিদর্শন।"

মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এই প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে দেখভাল ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা শুরুতেই ঘোষণা করেছি যে, দুর্নীতিতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করব। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আমরা একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। এই কারণেই মন্ত্রী হিসেবে আমি নিজে সশরীরে প্রজেক্টের কাজ পরিদর্শনে এসেছি।"

অতীতে নদী ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ও ব্লক ফেলা নিয়ে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ ও অলিখিত দোষারোপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী একটি নতুন উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, "বিগত দিনের সেই অপবাদ থেকে আমরা বের হতে চাই। এখন থেকে কোন এলাকায় কতটি ব্লক বা জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে, তা স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর সমন্বয়ে তদারকি করা হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা প্রজেক্ট এলাকায় বড়ো সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেবো, যাতে লেখা থাকবে, এখানে ২০০০ ব্লক বা ২০০০ জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষও সবকিছু দেখতে ও জানতে পারবেন। কারণ, এই প্রটেক্টিভ কার্যক্রমের সুফল পাবেন স্থানীয় জনগণই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা পুরো বাংলাদেশে এই নিয়ম চালু করছি, যাতে জনগণ মনে করে এই কাজটা তাদের নিজেদের এবং তারা যেন এটি দেখভাল করতে পারেন।"

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী কাজের গতি বজায় রেখে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে প্রকল্প শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কড়া নির্দেশ দেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password