হাওড়ের পানি উঠে যাচ্ছে আকাশে

হাওড়ের পানি উঠে যাচ্ছে আকাশে
Crickex Sign Up

অলৌকিক দৃশ্য! কি ভাবে হাওড়ের পানি উঠে যাচ্ছে আকাশে, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের ভেতর হঠাৎ করে দেখা মিলেছে বিস্ময়কর জলস্তম্ভের। দেখে মনে হচ্ছে হাওর থেকে পাইপ দিয়ে পানি উঠছে আকাশে। এই দৃশ্য মুহূুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে ঝোড়ো বাতাসের সময় হাকালুকি হাওরে আকাশ থেকে নিচে নেমে আসা ফানেলের মতো একটি দৃশ্য দেখা যায়।

এ সময় অনেকে দূর থেকে মুঠোফোনে এ দৃশ্যের ভিডিও করেন। অনেকে ছবি তোলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসব ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ফেসবুকে কেউ কেউ ‘আকাশ হাওর থেকে পানি শুষে নিচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। আবার কেউ এ ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলেন। তবে আবহাওয়াবিদেরা বলেছেন, এটা টর্নেডো। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটা ঘটেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, উপজেলার জায়ফরনগর ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে হাকালুকি হাওর বিস্তৃত।

গতকাল সকাল থেকে প্রচণ্ড গরম পড়ে। একই সঙ্গে চলে লোডশেডিং। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ করে। ঝড় শুরু হয়। এ সময় হাওরে ফানেলের মতো দৃশ্য চোখে পড়ে। দু-তিন মিনিট তা স্থায়ী হয়। জায়ফরনগর ইউনিয়নের বেলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রব টর্নেডোর সময় হাওরের কাছে কণ্ঠিনালা নদীর রাবার বাঁধ প্রকল্প এলাকায় ছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘গরম আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকজন মিলে হাওর এলাকায় বেড়াতে যাই।

হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে যায়। বৃষ্টি হবে—এ আশায় বসে ছিলাম। এ সময় দেখি, আকাশ থেকে হাতির শুঁড়ের মতো কিছু হাওরের মাঝখানে নেমে পড়ছে। সঙ্গে তুফান আর বৃষ্টি। খুব ভয় পাই। এটা দুই থেকে তিন মিনিটের মতো ছিল।’ আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান আজ রোববার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, হাকালুকি হাওরে ছোট আকারের টর্নেডোর দৃশ্য দেখা গেছে; অন্য কিছু নয় এটা।

তিনি আরও বলেন, যেখানে বায়ুমণ্ডলের চাপ কম ও তাপমাত্রা বেশি থাকে, সেখানে শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়। এ সময় চারদিক থেকে আসা বাতাসের কারণে ওই স্থানে ঘূর্ণনের সৃষ্টি হয়। প্রবল বেগে মেঘের সঙ্গে বাতাস নিচের দিকে নামতে থাকে। তখন দেখতে অনেকটা ফানেলের মতো লাগে। এটাই টর্নেডো। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ রকম ঘটনা ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    

মন্তব্যসমূহ (০)