এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে কারাগারে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্টির মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে

এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে কারাগারে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্টির মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে

কারাগারে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ আসে, এর মধ্যে মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, হিজড়া এবং এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের জনগোষ্টি। তবে সম্মিলিত ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে সকল কারাবন্দির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে"- বলেছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক।

কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক সচেতনতামূলক অনলাইন প্রশিক্ষণে ১৮ নভেম্বর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কারা অধিদপ্তর এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস এন্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) সহযোগিতায় ‘প্রিভেনশন অব এইচআইভি এ্যামংগেস্ট দ্য মোস্ট এ্যাট রিস্ক প্রিজনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ আবু তাহের, জাতীয় প্রোগ্রাম সমন্বয়ক (মাদক এবং এইচআইভি/এইডস) ইউএনওডিসি।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য ও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। এসময় মো. আবু তাহের বলেন, কারাগারে এইচআইভি ঝুঁকি দেশের যে কোন জনগোস্টির তুলনায় বেশি। কারাগারের অভ্যন্তরে এইচআইভি ছড়ানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কারাবন্দি, অনিরাপদ যৌন কার্যকলাপ এবং কারাগারের দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবার কারণে হয়ে থাকে।

প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহনের জন্য তিনি ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনকে এবং সহযোগিতার জন্য কারা অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানান। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, বর্তমান সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপে কারা ব্যবস্থাপনার ও কারাবন্দিদের মানবিক অবস্থার অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কারাবন্দিদের মাঝে এইচআইভি ও অন্যান্য সংক্রমণ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, কারাগারের বন্দী ও কারা কর্মকর্তাদের মধ্যে এইচআইভি ও এইডস সক্রামণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। প্রশিক্ষণটিতে এইচআইভি বিশেষজ্ঞ দ্বারা বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করা হবে। উল্লেখ্য, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের তত্ত্বাবধানে আটটি ব্যাচের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারের এবং সাতচল্লিশটি জেলা কারাগারের কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণটি প্রদান করা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password