নওগাঁয় ইরি-বোরো ধানকাটা ও মাড়াই শুরু

নওগাঁয় ইরি-বোরো ধানকাটা ও মাড়াই শুরু

নওগাঁয় ইরি-বোরো ধানকাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। নওগাঁর ১১টা উপজেলার মধ্যে মান্দা, নিয়ামতপুর, আত্রাই ও রাণীনগরের নিম্নাঞ্চলে ধান কাটছে কৃষক। ধান ঘরে তুলতে কৃষি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

শ্রমিকদের থাকার জন্য গত বছরের মত এবারও বিদ্যালয়ের কক্ষ খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। স্বপ্নের চকচকে সোনালী পাকা ধান কৃষকের ঘরে উঠছে। নতুন ধানের সৌরভ ও পাখির কলতানে এখন মুখরিত মাঠগুলো। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্য বিলের জমির প্রায় সব ধানই ঘরে উঠবে আশা করছেন চাষিরা।

বোরো ধান কাটছে কৃষক, কৃষকরা বলছেন, গেল কয়েক বছরের মধ্যে এবার বিলের জমিগুলোতে ধানের ফলন ভাল হয়েছে । প্রতি বিঘায় মোটা ধানের ফলন হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ মণ। সরু ধানের ফলন আসছে ২৫ থেকে ২৮ মণ। এটিকে বাম্পার ফলন বলছেন কৃষকরা। তবে দু’য়েকটি জমির ধান বালাইয়ের আক্রমণে নষ্ট হয়েছে।

শিব নদী বিলের বোরো চাষি রাজু হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমের উৎপাদন বিঘা প্রতি গেল বছরের চেয়ে ৪ থেকে ৫ মণ বেশী হচ্ছে। প্রতি বিঘায় খরচ পড়েছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। রিয়াজ উদ্দিন নামে অপর এক চাষি বলেন- নতুন ধানের বাজার দর ভাল। প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকা মণ দরে। চাষিরা অভিযোগ করে বলেন-ভরা মৌসুমে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দর কমায়। বাধ্য হয়ে কম দরে ধান বিক্রি করতে হয়। তাই বাজারে তদারকি বাড়ানো, পাশাপাশি ফলন ও উৎপাদন খরচ হিসাব করে সরকারী দর বেঁধে দেয়ার দাবিও জানান কৃষকরা।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় গেল বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তাই অন্য জেলা থেকে শস্য শ্রমিক আনা-নেয়ার ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। এসময় শ্রমিকদের থাকার জন্য বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের পরামর্শদেন মন্ত্রী।

সভায় নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ বলেন, চলতি মওসুমে নওগাঁয় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে। নতুন ধান মাড়াইয়ের পর ধানের আদ্রতা পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২২। পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হতে আরো সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password