কালবৈশাখীর ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জন

গাইবান্ধা জেলা সদরসহ সাত উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের নিচে, ঘরের চাপা ও উড়ে আসা ঘরের টিনের চালার আঘাতে আহতদের মধ্য থেকে এখন মৃতের সংখ্যা ৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জন।নতুন করে যে ৭ জনের মৃত্যুর সংবাদ সোমবার পাওয়া গেছে তারা হচ্ছেন- গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের সরকারটারি রিফাইতপুর গ্রামের খগেন্দ্র নাথের স্ত্রী জোসনা রাণী (৬৫), রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিণসিংহা তিনগাছেরতল গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে শিশু মনির হোসেন (৫) ও আরজি বাসুদেবপুর গ্রামের

রিজু মিয়ার স্ত্রী আরজিনা বেগম (২৮), মোল্লারচর ইউনিয়নের চিথুলিয়া দিঘর গ্রামের আমিনুল ইসলামের স্ত্রী বাতাসী বেগম (৩২), ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চর গ্রামের হাফিজ উদ্দিন (৬৫), পলাশবাড়ি উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমিদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মমতা বেগম (৬৪) ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের নাজমুল হোসেনের নববধূ শারমিন বেগম (২০)।
 
উল্লেখ্য, রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে দেড় ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে যাদের মৃত্যু হয়, তারা হলেন পলাশবাড়ী উপজেলার ডাকেরপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৯), মোস্তফাপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে গোফফার আলী (৩৮), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আমেনা বেগম (৪৫), ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী গ্রামের শিমুলী বেগম (২৫) ও মালিবাড়ি ইউনিয়নের ঢনঢনিপাড়ার মিঠু মিয়ার স্ত্রী সাহেরা বেগম (৪০)।

এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার সাত উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার ৮৬০ জন এবং ৪ হাজার ৩২৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে নিহত ১২ জনের পরিবারকে লাশ দাফন কাজের জন্য ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ৮৬৯ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে ভুট্টা ৮৩০ হেক্টর, বোরো ২০ হেক্টর, কলা ১৬ হেক্টর ও সূর্যমুখী ৩ হেক্টর। তবে এখনও ফসলের আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করা যায়নি।জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ঘরে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন