৫৪ বছরেও গড়ে ওঠেনি সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে অধিকাংশ শৌচাগার বর্তমানে আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা বাধ্য হচ্ছেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শৌচাগার ব্যবহার করতে।

এদিকে দিনের পর দিন নোংরা শৌচাগার ব্যবহার করায় রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি- শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়াসহ যত্রতত্র আবর্জনা ফেলায় এগুলো অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।

রমেক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরেও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় জরুরি বিভাগের প্রবেশপথসহ (সাইকেল গ্যারেজের দিক) হাসপাতাল ভবনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে কোথাও পয়ঃনিষ্কাশনের ময়লা আবার কোথাও নিত্যদিনের আবর্জনা জমে থাকছে দীর্ঘসময় ধরে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষেরা যেমন ভোগান্তি হচ্ছে তেমনি রোগজীবাণুর সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে ৬৫ একর জমিতে ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রমেক হাসপাতাল। পাঁচতলা বিশিষ্ট এক হাজার বেডের হাসপাতালটি ১০টি ব্লকে বিভক্ত এবং প্রতিটি ব্লকে ওয়ার্ড আছে চারটি। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকে।

এছাড়া চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন সহস্রাধিক। পাশাপাশি বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নেয়াসহ প্রতিদিন পাঁচ-সাত হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে আসেন। রমেক হাসপাতালের ৬নং (সার্জারি) ওয়ার্ড হচ্ছে মডেল ওয়ার্ড। কিন্তু এর শৌচাগারটিতে আবর্জনা জমে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন থাকতে হবে তাই পরবর্তী হয়রানির আশঙ্কায় নাম ঠিকানা গোপন রেখে একাধিক রোগী জানান, খুব প্রয়োজন ছাড়া শৌচাগারমুখী হন না। বিষয়টি ওয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

৪ নং ওয়ার্ড (কার্ডিওলজি বিভাগ) এবং ৭নং ওয়ার্ডসহ (পুরুষ) একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, শৌচাগারগুলোর করুণ চিত্র। অনেক শৌচাগারের প্রবেশ মুখে নিত্যদিনের খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে। কোথাও মলমূত্র জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। অনেকটা নিরুপায় হয়ে রোগীরা প্রকৃতির কাজ সারছেন। এমনকি কোথাও ওয়ার্ড এবং শৌচাগার বিভক্তকারী মূল দরজায় ছোট-ছোট একাধিক ভাঙা থাকায় চলমান ঠান্ডায় বেডে থাকা রোগীরা অসনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। শুধু তাই নয়, কখনো কখনো বিড়াল আর কুকুরও সুযোগ পেলে ওয়ার্ডে প্রবেশ করছে।

রমেক হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শাহ মো.রফিকুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন কোথাও আবর্জনা জমে থাকলে সেখানে রোগজীবাণুর সৃষ্টি হবে, এটাই নিয়ম। তাই শৌচাগার পরিষ্কার রাখার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এখানে শৌচাগার পরিষ্কার রাখা সত্যি দুরূহ।

তিনি বলেন, রমেক হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর শৌচাগারগুলো মূলত অধিক ব্যবহারের ফলে এই করুন দশার সৃষ্টি হয়েছে। খাতা কলমে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রোগী থাকে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজারের মতো।

একেক জন রোগীর জন্য আবার তার সহযোগী থাকেন ২-৩ জন। অথচ এই বিশাল মানুষের চাপ নিতে পারছে না বিদ্যমান শৌচাগারগুলো। তাই তিনি মনে করেন, নতুন রুম তৈরি করে ওয়ার্ডের রোগীর চাপ কমিয়ে এবং শৌচাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ সমস্যার প্রকৃত সমাধান করা সম্ভব।

রমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. রোস্তম আলী বলেন, মূলত ছয়শ বেডের অবকাঠামো দিয়ে বর্তমানে এক হাজার বেডের সেবা দিতে হচ্ছে। যে লোকবল এবং অবকাঠামো বৃদ্ধি করা দরকার তা করা হয়নি।

ইতোমধ্যে হাসপাতালের সামনে একদিকে গ্রিনজোন করার উদ্যোগ নিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে রোগীরা ফ্রেশ হতে পারবেন। এছাড়াও ওয়ার্ডের শৌচাগারগুলো দীর্ঘসময় কীভাবে কার্যকর রাখা যায় তা নিয়ে গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সাথে কথা হয়েছে’।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন