আজ বিখ্যাত সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্মদিন

যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি, আশু গৃহে তার দখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?

বর্তমানে সকলের নিকট অতি পরিচিত এই কথাগুলো যার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য জগত পেয়েছিলো তিনি হলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।

আঠারোশো চৌত্রিশ সালের আজকের এই দিনটিতে অর্থাৎ একত্রিশে মে খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম। 

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁর পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। মূলত কীর্তিপাশার জমিদারের অর্থানুকূল্যে তিনি জীবনযাপন করেন।

জমিদার-পুত্রের সঙ্গে তিনি ঢাকা আসেন এবং তাঁর এক জ্ঞাতি ঢাকা জজকোর্টের উকিল গৌরবচন্দ্র দাসের আশ্রয়ে থেকে ঢাকার নর্মাল স্কুলে শিক্ষালাভ করেন। এখানে তিনি সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। 

এ সময় থেকেই তাঁর কাব্যচর্চা শুরু হয়। ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

তিনি বিভিন্ন স্কুলে দীর্ঘ উনিশ বছর শিক্ষকতা করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন খুবই নিষ্ঠাবান। অনেক কীর্তিমান ব্যক্তি তাঁর ছাত্র ছিলেন।

কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় আঠারোশো একষট্টি সালে। নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।

বাল্যকালে তাঁর একটি ছদ্মনাম ছিল রামচন্দ্র দাস, সংক্ষেপে রাম। তাই পরিণত বয়সে তিনি রামের ইতিবৃত্ত নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন।

মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচিত তাঁর অপর গ্রন্থ হলো মোহভোগ। কৈবল্যতত্ত্ব তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক রাবণবধ। 

এ ছাড়া তাঁর অপ্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যাও পনেরোটি। তাঁর রচনা প্রসাদগুণসম্পন্ন এবং তাঁর কবিতার অনেক পঙ্ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।

কৃষ্ণচন্দ্র আঠারোশো ষাট সালে মাসিক মনোরঞ্জিকা ও  কবিতাকুসুমাবলী নামক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। আঠারোশো একষট্টি সালে  ঢাকা প্রকাশ প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

কিন্তু এর মালিকের সঙ্গে মতানৈক্য হলে তিনি পদত্যাগ করেন এবং আঠারোশো পঁয়ষট্টি সালে বিজ্ঞাপনী নামক পত্রিকার সম্পাদক হন। দেড় বছর পর তিনি আবার ঢাকা প্রকাশ পত্রিকার সম্পাদক পদে প্রত্যাবর্তন করেন।

আঠারোশো ছিয়াশি সালে যশোর থেকে তিনি সংস্কৃত ও বাংলা ভাষায় দ্বৈভাষিকী নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

কবিতাকুসুমাবলী ছিল পদ্যবহুল মাসিক পত্রিকা। তাঁর সদ্ভাবশতক কাব্যের অধিকাংশ কবিতাই এ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উনিশশো সাত সালের তেরোই জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

আজ তার জন্মবার্ষিকীতে জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং অজস্র ভালোবাসা।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password