কানে ধরছি,আর গরু পালবো না:জনৈক খামারী

কানে ধরছি,আর গরু পালবো না:জনৈক খামারী

ভাই,দাম কত?? ঈদ-উল-আযহা তে রাস্তায় একথাটি নতুন না হলেও,এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

এবারের কোরবানী ঈদের তৃতীয়দিন পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষের মত গবাদিপশু অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে যাবে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সংস্থার জরীপকারীরা। এরই মধ্যে একজন খামারী আক্ষেপ করেই বলে বসলেন,তিনি আর গবাদীপশু পালন করতে চান না। ভারত হতে গরু রপ্তানী বিভিন্ন কারনে বন্ধ হলেও এখনো মুলত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় গরুর কেনাবাচা হয়। কিন্ত,ঢাকা,চট্টগ্রামের মত শহরাঞ্চলে এখনো দেশী গবাদীপশু এবং গরু-ছাগলের জয়জয়কার হলেও কোভিড-১৯ সহ নানা কারনে এবারের কোরবানি ঈদে হাটগুলোয় ক্রেতা সমাগম ছিল অনেকাংশে কম।

অন্যদিকে,ক্রেতাদের করা দাম এবং বিক্রেতাদের হাকা দামের মাঝেও পার্থক্য বেড়েছে। অনেক ক্রেতা দামে সন্তষ্ট না,তেমনি অনেক বিক্রেতাও বেচা দামে সন্তষ্ট হতে পারছেন না।ডিজিটাল হাটে গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী,২০১৪ সাল থেকে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।২০১৫ সালে প্রায় ৯৭ লাখ থেকে ২০১৬ তে তা ১ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করে।যার বর্তমান সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখের মত। ২০১৭ থেকে খামারিরা ধীরে ধীরে গরু এবং ছাগল পালনে উৎসাহিত হবার পর থেকেই বাজারগুলোতে দেশী গরুর সংখ্যাও বেড়েছে।

তবে ঈদের বাজারে পরিবহণ ব্যয়,চাঁদাবাজি,রাস্তায় ট্রাক ছিনতাই সহ অনেক কারনে গরুর দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। একই ভাবে গরুর খড়ের দাম ক্রেতাপর্যায়ে কেনা চালের চাইতেও দামী,খড়,ভুষি,গরু পালনের খরচ,চিকিৎসা,গরম এবং শীতের লাইট-ফ্যান,বিদ্যুত বিল এসব বিষয় গুলো ও দায়ী। অন্যদিকে কোভিডের কারনে ক্রেতার ক্রয় সক্ষমতা কমে যাওয়ায় উভয় পক্ষ এখন ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা পরপর ২ বছরের ক্ষতির জন্য আর খামারী না করে চাষাবাদে ঝুকে পড়বেন বলে আশংকা করা হচ্ছে।

ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের গবাদিপশু শিল্পে ভারতীয় প্রভাব কমা নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট হলেও তাতে খামারীদের এখনো কোন লাভ হচ্ছেনা তা এখনই প্রতীয়মান।অনেকে বেশী দামে আবার গরু ফিরিয়ে নিতে হবে বলে আজ কম দামেই গরু বিক্রি করে দেবেন খামারীরা তাদের শেষ সম্বল পুজি করেও হয়ত বেশীদিন আর ব্যবসা করে যাবেন না,এবং তা সম্ভব ও না।একথা সত্য যে,খামারীদের যদি আমরা ছাড় না দেই তবে খামারীদের লাভ উঠা অসম্ভব।আর এভাবে দেশের গরু-ছাগল উভয় শিল্পেই সামনে ভারতীয় গরুর আধিক্য বাড়বে।

ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে চারনভুমি কম,দেশী গরুর ওজন ও হয় কম।এখনো অনেক খামারি অস্ট্রেলিয়ান গরু বড়পরিসরে শুধুমাত্র দুগ্ধের জন্যই পালন করেন।এটিও সত্য কোরবানির পশুতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট রয়েছে।তবে দেশের জনগন যদি নিজ দেশের শিল্পকে বাচতে এগিয়ে না আসে,তবে এ শিল্পকে সামনে আই.সি.ইউ তে যেতে হবে তাতে সন্দেহ নেই।

অন্যদিকে,সরকার চাইলেই এ শিল্পে মধ্যস্বত্বভোগী,চাঁদাবাজি,ছিনতাই,হাটের শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে পারে।অনলাইন হাট একটি অনন্য উদ্দ্যোগ ছিল।বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটেও গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে যার দাম ছিল কিছুটা চড়া। স্বল্প আয়ের কাস্টোমারদের কথা বিবেচনা করে একটি কোরবানীর পশু বিক্রয় কমিশন করা যেতে পারে,যাদের কাজ হবে ওজন অনুযায়ী একটি নায্য দাম ফিক্স করে দেয়া।যাতে ক্রেতারা অভিযোগ না করতে পারে আর বিক্রেতারাও লাভের মুখ দেখে। নয়ত সামনের দিনগুলোতে ভারতের গরুতে ঈদ করতে হলে অবাক হওয়ার কিছু রইবে না।সবাইকে ঈদ মোবারক।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password