দেশের ৮৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, সরকারের সমালোচনার জন্য

মহামারি করোনার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সমালোচনা করে লেখালেখির জন্য সারা দেশে ৮৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

৮ জুন মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলা এবং করোনার টিকা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে একই কারণে করোনাকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক একজন লেখকের কারাবন্দী অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গবেষণাপত্রে আরও জানানো হয়েছে ২০২০ সালে সারা দেশে মোট ২৪৭ জন সাংবাদিক আক্রমণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এদিকে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা, নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় প্রণোদনা বিতরণে যথাযথ উদ্যোগের ঘাটতিসহ সমন্বয়হীনতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন আইনের লঙ্ঘন করে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির মাধ্যমে জনগণের টাকা হতে তৃতীয় পক্ষের লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

কৌশলগত ঘাটতি, ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব ও রাজনৈতিক বিবেচনায় টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রে একক উৎসের ওপর নির্ভর করার কারণে চলমান টিকা কার্যক্রমে আকস্মিক স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ সব কিছু বিবেচনা করে টিআইবি এর গবেষণা পত্রে ১৯টি সুপারিশ করা হয়েছে।

যার মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য সকল উৎস থেকে টিকা পাওয়ার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ব্যতীত টিকা ক্রয় চুক্তি সম্পর্কিত সকল তথ্য সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। সত্য খবর প্রকাশ ও সঠিক সমালোচনার জন্য দিন দিন অনেক সাংবাদিক ই পড়ছেন হুমকির মুখে। সরকারের ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করাকে অপরাধ হিসেবে গন্য করা হচ্ছে যা স্বাধীন দেশের নাগরিকদের বাক স্বাধীনতাকে কেড়ে নেয়ার সমান।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password