স্পর্শ করলেই অসুস্থ,৪০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ

স্পর্শ করলেই অসুস্থ,৪০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রথমে দেখলে যে কারো মনে হবে এ যেন অসুস্থ হওয়ার প্রতিযোগিতা। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসুস্থ শিক্ষার্থী অন্য কোন সুস্থ সহপাঠীকে স্পর্শ করলেও হয়ে যাচ্ছে অসুস্থ। তবে কী কারণে অসুস্থ হচ্ছেন তা এখনো সবার কাছেই অজানা। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বুধবার (১৫) সকালে ওই বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হতে শুরু করে। কেন অসুস্থ হচ্ছে, কেনই বা অস্বাভাবিক আচরণ করছে তার কিছুই বলতে পারে না শিক্ষার্থীরা। মুহূর্তের মধ্যে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে।

আজ বৃহস্পতিবার এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় কেউ বিদ্যালয়ে আসেনি। এ ঘটনায় অসুস্থ শিক্ষার্থীরা অনেকেই চিকিৎসা নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বাকিদের অভিভাবকদের মাধ্যমে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার দিনব্যাপী ওই বিদ্যালয়ে ঘটছে এমন বিস্ময়কর কাণ্ড।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, একে একে ৪০ জন শিক্ষার্থী মুহূর্তেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেউ কান্না করছে, কেউ আবার চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে, কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। একজন অন্যজনকে স্পর্শ করলেই দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়ছে অসুস্থতা।

বাস্তবে দেখলে যে কেউ মনে করবেন কোনো আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে হচ্ছে সব কিছু। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে সপ্তম শ্রেণির হাবিবা, মরিয়ম, সুমাইয়া, অষ্টম শ্রেণির কুলসুম, চাঁদনী, নবম শ্রেণির শামিমা, জান্নাতি, আরিফা ও দশম শ্রেণির মীম, হাফিজা ও নাবিলা। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি আক্তারের বাবা আব্দুল জলিল বলেন, গতকাল বুধবার বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদের মধ্যে কয়েকজন দুপুরের দিকে কিছুটা সুস্থ হয়। তারা কিভাবে অসুস্থ হলো জানতে চাইলে বলে, আমরা হঠাৎ করে নিজেকেই নিজে চিনতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল কেউ আমাদের তাড়া করছে। অন্যদিকে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আমরা অসুস্থ হয়ে পড়েছি―এমন খবর পেয়ে আমাদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এলে দু-একজন ব্যতীত অনেকেই আমরা তাদের চিনতে পারিনি।

এ ছাড়া তাদের তেমন কিছু মনে নেই বলে জানায়। তবে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই সপ্তম থেকে দশম শ্রেণিতে পড়া ছাত্রী। তবে একজন ছাত্রও অসুস্থ হয়নি। ফলে বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘটনাটিকে রহস্যময় বলছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এ ঘটনার কোনো সঠিক কারণ খুঁজে পায়নি। ঘটনার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে―এমনটাই জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নান্না মিয়া। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষ অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।

যতটুকু জানতে পেরেছি, এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বুঝিয়ে শান্ত রাখাটাই উত্তম।’ এ বিষয় চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে জানতে কথা হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের (শেবাচিম) মেডিসিন বিভাগের ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার ডা. রবীন্দ্রনাথ সরকারের সঙ্গে।

তিনি বলেন, এমন অজ্ঞাত কারণে অসুস্থতার ঘটনা অনেক সময় ঘটে। তবে এটি কোনো ধরনের অলৌকিক বিষয় নয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ সমস্যার একটি সুন্দর ব্যাখ্যা আছে। এটির বাংলা অক্ষরিক নাম গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বা (মাস হিস্টিরিয়া)। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এমনটা দেখা যায়।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password