৭ দিনেই বোঝা যাবে কোন পথে বাংলাদেশ

৭ দিনেই বোঝা যাবে কোন পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন কোন করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। এই পর্যন্ত এক হাজারের কিছু বেশি করোনা সন্দেহভাজন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৪৮ জনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছিল। এদের মধ্যে ৫ জন মারা গেছে এবং ২৫ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বাংলাদেশের জন্য এই পরিসংখ্যানটি ইতিবাচক, আশা জাগানিয়া এবং অনেকেই মনে করতে পারেন যে, এর ফলে হয়তো বাংলাদেশ আরেকটি মিরাকেল করলো, করোনা মহামারীর যে শঙ্কা, সেই শঙ্কা থেকে বাংলাদেশ হয়তো আস্তে আস্তে বের হয়ে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখনো আশান্বিত হবার মতো কিছু নেই। বরং সীমিত পরীক্ষার কারণে বাংলাদেশে সঙ্কট ভয়াবহ হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগামী ৭ দিনে আসলে বাস্তবতা বোঝা যাবে যে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থে কি অবস্থায় রয়েছে। সরকার তাঁর নানা রকম সীমাবদ্ধতার কারণে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা সীমিত আকারে রেখেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামেও করোনা শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জায়াগায় করোনা শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই আজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। যদি আমরা ধরে নেই যে, সরকারের ২/৩ দিনমানে এক সপ্তাহ, তাহলে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির আসল চিত্রটা পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখছি তা খুবই সীমিত, খণ্ডিত এবং আংশিক চিত্র মাত্র। এখান থেকে পুরো বাংলাদেশের অবয়ব পাওয়া যায়না। বাংলাদেশে আশার আলোর মাঝেও কিছু আশঙ্কা এবং সংশয় রয়েছে। এই আশঙ্কা এবং সংশয়ের প্রধান কারণ হলো তিনটি। সেগুলো হচ্ছে-
প্রথমত, যে সমস্ত ব্যক্তিরা ইউরোপ-ইতালি থেকে এসেছেন তাঁরা বাংলাদেশে হোম কোয়ারেন্টাইন মানেননি, তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছেন। ফলে তাঁদের মধ্যে যদি কেউ করোনার জীবানু বহন করে থাকে তাহলে বাংলাদেশে উচ্চ হারে সামাজিক সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই সমস্ত বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা দেশে এসে বিভিন মানুষের সাথে মেলামেশা করেছেন। সেই মেলামেশার পর বাংলাদেশে যখন ২৬ শে মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়, তখন এইসব বিদেশ ফেরতদের অনেকেই নিজের ঘরে চলে যান এবং তাঁদের মধ্যে সামাজিক সংক্রমণের সম্ভবনা বেড়ে যায়।
তৃতীয়ত যে হোম কোয়ারেন্টাইনের কথা বলা হয়েছে, সেই হোম কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি, বিভিন্ন স্থানে মানুষ ঘুরে বেড়িয়েছে।
এই তিন শঙ্কার কারণে মনে হচ্ছে, আদতে বাংলাদেশে কি পরিমাণ মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে এই ব্যাপারে আমরা অন্ধকারে আছি।
আবার এর উল্টো পিঠে আশার আলোও আছে। সেটা হচ্ছে, করোনার সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ দিক, যেটাকে আমরা সবাই উপেক্ষা করছি, প্রায় ৯০ ভাগ রোগীই করোনা সংক্রমিত হবার পর শুধু মৃদু উপসর্গ অনুভব করে এবং এটা ১২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আপনা-আপনিই ঠিক হয়ে যায়। বাংলাদেশে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২৫ জন এরকম নিজে থেকেই ঠিক হয়ে গেছে। কাজেই বাংলাদেশে যদি ধরেই নেয়া যায় যে সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে এবং বাংলাদেশের গড় বয়স, আবহাওয়া ইত্যাদির কারণে সেই সংক্রমিতদের মৃদু উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসা ছাড়াই তাঁরা নিজে থেকে সুস্থ হয়ে যাবে এবং যখন পরীক্ষার আওতায় আসবে তাঁরা, তখন দেখা যাবে ফলাফল হবে নেগেটিভ।
একারণে মনে করা হচ্ছে যে, আগামী ৭ দিনে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির আসল চিত্রটা দেখা যাবে। বাংলাদেশে এক দেখা যেতে পারে যে, অনেক বেশি করোনা সংক্রমণ হয়েছে এবং এর ফলে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবার এমনও হতে পারে যে, বাংলাদেশে মিরাকেল ঘটল। যেমনভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তেমন কিছুই ঘটেনি, বরং নানা বাস্তবতায় করোনায় আক্রান্তের অনুপাত অনেক কম। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে মিরাকেল হয়েছে, করোনার ক্ষেত্রেও কি বাংলাদেশ আরেকটি মিরাকেলের অপেক্ষায় রয়েছে?

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password