তরমুজ ব্যবসায়ী ফেরাউন এখন বাংলাদেশে

তরমুজ ব্যবসায়ী ফেরাউন এখন বাংলাদেশে

চলছে তরমুজের মৌসুম। বরিশাল বিভাগে উৎপাদিত তরমুজ দেশের ৬৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে বলে জানিয়েছে কৃষি দপ্তর। তাছাড়া চলমি মৌসুমে বিভাগের ছয় জেলায় ৪৬ হাজার ৪৫১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, এর আগের মৌসুমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন।

দ্বিগুন উৎপাদন হলেও বরিশালেই তরমুজের দাম আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তার উপরে খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটে নাকাল হয়ে পেছে মানুষ। পিসমূলে কিনে এনে কেজিদরে বিক্রি করায় সমালোচনারও অন্ত নেই। ব্যবসার এমন পদ্ধতিকে ক্রেতা ঠকানোর বলে মনে করছেন ক্রেতারা।


ওদিকে তরমুজের এমন বাজারদশা দেখ অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তরমুজ পিস হিসেবে কিনে কেজিদরে বিক্রি করাকে ফেরাউনের ব্যবসার সাথে তুলনা করে পোস্ট দিচ্ছেন। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা দাবী করেছেন, ফেরাউন তরমুজ পিস হিসেবে কিনে দাঁড়ি পাল্লায় মেপে বিক্রি করতেন।

মেপে অধিক দামে বিক্রি করায়, সেই সময় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল তরমুজ। প্রায় তিন হাজার বছর আগে ফেরাউন যেভাবে ব্যবসা করতেন তিন হাজার বছর পরেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ফেরাউনের সেই পদ্ধতি অনুসর করে ব্যবসা করছেন। ফেসবুক ব্যবহারকারী যদিও ফেরাউন বলতে একজন ব্যক্তিতে বুঝিয়েছেন, বস্তুত ফেরাউন কিন্তু একজন ব্যক্তি নন।তৎকালীন মিসরের সম্রাটদের ফেরাউন বলা হতো। তবে পবিত্র কুরআনে ফেরাউনকে সীমা লঙ্ঘনকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর আদি ছয়টি জাতির মধ্যে ফেরাউনের অন্যতম। ফেরাউন সম্পর্কে কোরআনের ২৭টি সুরায় ৭৫টি স্থানে আলোচনা করেছেন। এটি কোরআনে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে ফেরাউনের চরিত্র ও তার জুলুমের পদ্ধতি পরিষ্কার হয়ে যায়, আর এ যুগের নব্য ফেরাউনরা যেন এ বিষয়ে সতর্ক হয়। এর একটি কারণ এটাও যে মুসা (আ.)-এর অলৌকিক ক্ষমতা অন্য নবীদের তুলনায় বেশি ছিল।

আবার তাঁর জাতি বনি ইসরাইলের মূর্খতা ও হঠকারিতার ঘটনাবলিও ছিল বিগত উম্মতগুলোর তুলনায় অধিক আলোচিত। কোরআনে ফেরাউনের আলোচনা বারবার করার মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন নামে ফেরাউনরা আসবে। ঈমানদারদের ওপর তাদের জুলুমের ধারা ও বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম হবে; যদিও পদ্ধতি পরিবর্তিত হবে। ‘ফেরাউন’ কোনো ব্যক্তির নাম নয়।

এটি তৎকালীন মিসরের সম্রাটদের উপাধি। কিবতি বংশীয় এই সম্রাটরা কয়েক শতাব্দীব্যাপী মিসর শাসন করেছেন। এ সময় মিসর সভ্যতা-সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল। লাশ মমি করা, পিরামিড তৈরি প্রভৃতি তাদের সময়কার বৈজ্ঞানিক উন্নতির প্রমাণ বহন করে। মুসা (আ.)-এর সময় পরপর দুজন ফেরাউন ছিল। লুইস গোল্ডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেরাউনের নাম ছিল দ্বিতীয় রামাসিস।

আর ডুবে মরা ফেরাউন ছিল তার পুত্র মানেপতাহ বা মারনেপতাহ। লোহিত সাগরসংলগ্ন তিক্ত হ্রদে সে সসৈন্যে ডুবে মারা যায়। যার মমি ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয়। সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম তীরে ‘জাবালে ফেরাউন’ নামে একটি ছোট পাহাড় আছে। এখানেই ফেরাউনের লাশ সর্বপ্রথম পাওয়া যায় বলে জনশ্রুতি আছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ফেরাউনের কাছে যাও, সে তো সীমা লঙ্ঘন করেছে। ’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ২৪)

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password