আমরণ অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা রেলওয়ে গেইট কিপারদের

আমরণ অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা রেলওয়ে গেইট কিপারদের

বাংলাদেশ রেলওয়ের মান—উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ১৮৮৯ জন গেইট কিপারের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণের দাবিতে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও রেলপোষ্য এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৮৮৯ জন গেইট কিপার রাজস্বকরণ বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল’ এর উদ্যোগে কমলাপুর রেলওয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের আমরণ অনশন আজ ১৪ মার্চ ২০২২ সোমবার ১৬তম দিনেও অব্যাহত রেখেছেন রেলওয়ে গেইট কিপাররা।

আজ অনশন স্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল ১৩ মার্চ রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে গেইটকিপারদের নিয়ে রেলপথ মন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুল দাবি করে গেইট কিপাররা বলেন, মন্ত্রী মহোদয় হয়তো আমাদের নিয়োগের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন না। আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম এসএসসি পাশ, ট্রেজারী চালান, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ সরকারি সকল বিধি অনুসরণ করে আমাদেরকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

তাই মাননীয় রেলপথ মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে গেইট কিপারদের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ করছি—আপনার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিন। গত ১৬ দিন ধরে কমলাপুরের খোলা আকাশের নিচে গেইট কিপাররা অনশন চালিয়ে আসলেও এখনো পর্যন্ত রেলপথ মন্ত্রণালয় দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গেইট কিপাররা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

অনশনের কারণে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হলে তার দায় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গেইট কিপাররা বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং—৪৭০ ই/গেইট কিপার নিয়োগ/প্রকল্প/সিই পূর্ব—২০১৬ (ডব্লিউ) তারিখ: ৩১/১০/২০১৬ইং, বিজ্ঞপ্তি নং—এসেট ৬০১/৫ (নিয়োগ) প্রকল্প সিই/পশ্চিম ২০১৬ (ডব্লিউ) তারিখ: ১৫/১০/২০১৬ইং মোতাবেক ১৮৮৯ জন গেইট কিপার অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োজিত আছি।

এর মধ্যে ৫৭২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ৫৫৫ জন রেলপোষ্য এবং ৩২৫ জন নারী গেইট কিপার রয়েছেন। ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর একনেক সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের কর্মরত গেইট কিপারদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে চাকরি স্থায়ী করণে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জরুরী ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। আমরা রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বহুবার স্মারকলিপি দিয়েছি, চিঠি দিয়েছি, আমাদের দুর্দশার কথা জানিয়েছি কিন্তু তারা আমাদের কোন কথায় কর্ণপাত করেনি। তারা বলেন, নিয়োগের সময় গেইট কিপারদের বেতন নির্ধারণ করা হয় সর্বসাকুল্যে ১৪,৪৫০/— টাকা। বিগত ৫ বছরে এ বেতন বাড়েনি।

বেশির ভাগ গেইটকিপার তাদের নিজ জেলা ব্যতীত অন্য জেলায় চাকরি করেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে বাসা ভাড়া, পরিবারের ভরণপোষণ, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। অপরদিকে প্রায় সকলের বয়স ৩২ বছর অতিক্রম করায় অন্য চাকরিতেও ঢোকার সুযোগ নেই। নং—মপবি/ক:বি:শা:/কপগ—১১/২০০১—১১, তারিখ: ০৩/০৫/২০০৩ ও নং—মপবি/ক:বি:শা:/মক—০১/২০০৩—২৮, তারিখ: ২২/০১/২০০৩ প্রজ্ঞাপন মূল্যে অস্থায়ীভাবে সৃজনকৃত পদ হইতে রাজস্ব খাতে প্রেরণ করা সম্ভব। অথচ আমাদের চাকরির মেয়াদ প্রায় ৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

তাই অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে আমাদের চাকরি রাজস্বখাতে স্থানান্তর করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিভাগের গেইট কিপার সুজন আহমদ, মোঃ আল মামুন, কাওছার, মাহাবুব আলম মাফুল, আবু সাঈদ আকন্দ, চট্টগ্রাম বিভাগের জাবেদুল হক, মোঃ মাসুদুল ইসলাম, পাকশি বিভাগের রূপা পারভীন, কাজী পিয়াশ, সোহেল, ছোটন প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password