মহানবীকে অবমাননার অভিযোগে বিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তার দাবি মমতার

মহানবীকে অবমাননার অভিযোগে বিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তার দাবি মমতার

কয়েকদিন আগেই এক টিভি শোতে মহানবীকে (সা.) নিয়ে মন্তব্য করেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র নেত্রী নূপুর শর্মা। তার ওই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে টুইট করেন দলের আরেক নেতা নবীন জিন্দাল। যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ এর প্রতিবাদ জানায়। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ জানায়, বিক্ষোভে শামিল হয়। আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করে মুসলিম সংগঠনগুলো।

এর ফলে জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পরিষেবার গাড়ি। চরম অসুবিধার মধ্যে পড়ে সাধারণ মানুষ। এবার নবীকে নিয়ে করা ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে কটূক্তিকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন মমতা। এদিন রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করে মমতা বলেন, আমি বিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি।

এই ঘটনায় আমি নিজে দুঃখিত এবং মর্মাহত। কারণ, নবীকে আমরা সকলেই সম্মান করি। সব ধর্মকেই আমরা সম্মান করি। তার প্রশ্ন, দিল্লিতে একটা ঘটনা ঘটল আর সেই প্রতিবাদটা দিল্লিতে না হয়ে বাংলার শান্ত মাটিতে কেন অশান্ত করতে হবে? এতে মানুষ আমাদের ভুল বুঝবে। আমরাতো হিন্দু মুসলিম সকলকে নিয়েই চলতে চাই। সকলেই আমার ঘরের ভাই-বোন। তার অভিমত, ধর্ম যার যার নিজের, কিন্তু উৎসব সকলের। আমরা সকলেই উৎসবে মিলিত হই।

পশ্চিমবঙ্গে যদি এই ঘটনা ঘটত, সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতো বলেও জানান মমতা। অবরোধকারীদের তার বার্তা, আপনাদের রাগ তো বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। তাই তারা ট্রেনে করে দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ- যেখানে বিজেপি সরকার আছে, সেখানে চলে গিয়ে সেখানে সড়ক অবরোধ করুন, প্রতিবাদ করুন। আমাদের তাতে সমর্থন থাকবে। কিন্তু বাংলা শান্তির জায়গা সেখানে কেন অসুবিধা করবেন?

তিনি আরও বলেন, যাদের মনে হয় কিছু করা উচিত তারা ওই দুজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করুন। রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখুন। নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে মিটিং-মিছিল করুন। একসময় অবরোধের রাজনীতি থেকে সকলকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়ে মমতা বলেন, আমি সকাল থেকে দেখছি হাজার হাজার গাড়ি রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। অবরোধের নাম করে সারা বাংলাটাকে তছনছ করা হয়েছে। আমরা চাই না কোনো ঘটনা ঘটুক।

তিনি আরও বলেন, আমরা দলগতভাবে এর প্রতিবাদ জানাব। আমরা তার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সারাবিশ্বে এটা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ভারতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, এরা দেশকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে। দেশে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে গোটা বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর আগে এদিন টুইটে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান মমতা।

তিনি লেখেন, আমি কিছু বিজেপি নেতাদের সাম্প্রতিক জঘন্য ও নৃশংস বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের নিন্দা করি। যার ফলে শুধু হিংসাই ছড়ায়নি, দেশের ঐক্যের বুননও বিভাজিত হয়েছে। টুইট করে বিজেপির অভিযুক্ত নেতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান তিনি। এদিকে এই ইস্যুতে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রতিবাদের আশঙ্কা করেই সতর্কতা জারি করা হলো। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য জেলার সব এসপি এবং কমিশনারকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)