রক্তের ফেরিওয়ালা এ জেড মিজান

রক্তের ফেরিওয়ালা এ জেড মিজান

একজন রক্তযোদ্ধা মিজান সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন একটি আহ্বানের, ‘একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন।’ খবর পেলেই ছুটে। এর পর ডোনারের খোঁজ, যত রাতই হোক প্রয়োজনে নিজস্ব বাইকে করে ডোনার কে বাড়ী থেকে নিয়ে আসা এবং পৌছে দেন, রোগীর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে। এ কাজটি তিনি নিজ উদ্যোগে শুরু করেন তার দেখে অনুপ্রানিত হয়ে এখন অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। এ কাজের জন্য সবাই তাকে রক্তের ফেরিওয়ালা বলেই ডাকেন।

এতক্ষন যার কথা বলছিলাম সেই রক্তযোদ্ধা রক্তের ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত সেই যুবকের নাম এ.জেড মিজান, তিনি ১৯৭৭ সালের ২৮ শে মে পত্নীতলার এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবার রহমান মাস্টারের ঘরে জন্মগ্রহন করেন। বর্তমানে তার রক্তের ডোনার সংখ্যা ২ হাজার জন যাদের প্রত্যকের ফোন নং নাম ঠিকানা তার সংগ্রহে আছে। রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ব্যাগ।

বর্তমানানে সেচ্ছায় রক্ত দানের জন্য তিনি নিজ খরচে একটি চেম্বার দিয়েছেন স্থানীয় নজিপুর বাজারে। এক দশক আগেও রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলেই শঙ্কা জেঁকে বসত স্বজনদের মনে, কোথায় মিলবে রক্ত। উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই ধরনা দিতেন পেশাদার রক্তাদাতাদের কাছে। টাকা দিয়ে কেনা রক্ত রোগীর শরীরে দিয়ে সাময়িক প্রয়োজন মিটলেও ভর করত আরেক দুশ্চিন্তা। রোগ সারাতে আরেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে না তো? আশার কথা, রক্ত নিয়ে দুশ্চিন্তার সময় এখন অতীত।

মিজান বলেন, কোনো একদিন এক রোগীর ও+ রক্তের প্রয়োজন পড়লে আমি তাকে এক ব্যাগ রক্ত দান করি, এতে ঐ পরিবারের যিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বেঁচে যান। ফলে পরিবারটি ধ্বংস হওয়ার থেকে বেঁচে যায়। আমার এক ব্যাগ রক্তের বিনিময়ে যে এত উপকার হবে ভাবতেই পারিনি। এ এক তৃপ্তিদায়ক শান্তি যা কখনো পরিবর্তন হবার নয়। তারপর মনে মনে নিয়ত করি যেভাবেই হোক আমি বা অন্যের থেকে রক্ত ম্যানেজ করে দিব ‘‘ ইনশা আল্লাহ’’। তারপর থেকে আল্লাহর রহমতে এই কাজ (রক্ত সংগ্রহ) চলছে। আমৃত্যু চলবে ‘‘ইনশা আল্লাহ’’ ।

এতে যারা রক্ত দান করেন তাদের সাথে কোন চুক্তি থাকে না আমাদের ব্যক্তিগত ভালোবাসার সম্পর্কের কারনে রক্তদাতারা রক্ত দান করেন। আসলে যারা রক্ত দান করেন তাদের মনও অনেক বড় এবং অন্যের উপকার করতে চান ফলে কাজটি সহজ হয়, মুমূর্ষ রোগী ও পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো জনসাধারনের পাশে দাঁড়ানো। যেকোন মহৎ কাজে লোকজনকে সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

রক্তের বিনিময়ে আমি রক্ত নেই না, তবে কেউ ইচ্ছা করে দিলে নেই। এই কাজটি একটি শিকলের মতো যিনি রক্ত পান উনার মাধ্যমে যেন আমি অন্যের কাছ থেকে রক্ত পাই সেই চেষ্টা করি। এটাতে অনেক বেগ পেতে হয়। মানবতার কল্যাণে আমি আমার এলাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের উপকার করতে চাই ।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password