পত্নীতলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলায় বঙ্গবন্ধু কর্ণার - তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক কে মামলার হুমকি

পত্নীতলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলায় বঙ্গবন্ধু কর্ণার - তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক কে মামলার হুমকি

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অযত্ন, অবহেলা আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ ছবি সংবলিত বঙ্গবন্ধু কর্নার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

এই তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক কে মামলার হুমকি এবং সাংবাদিকদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ র সহধর্মিণী ও মেডিকেল অফিসার ডা. হাসনা হেনা খানম। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত লাল-সবুজের বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার সারা দেশে প্রতিটি হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু কর্নার করার উদ্যোগ নেয়। উদাসীনতা, খামখেয়ালীপনা আর নিজ নিয়মেই চলছে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

এ বরেন্দ্র অঞ্চল মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন, রোগীর নূন্যতম চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী রেফার করা সহ নানা অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখিয়ে দিলো তাদের উদাসীনতার আরেকটি নজির। সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দন্ত বহি: বিভাগ এর সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ ছবি সংবলিত বঙ্গবন্ধু কর্নার সামনে মোটরসাইকেল পার্কিং ও হাসপাতালে বিভিন্ন আসবাবপত্র রেখে পুরো জায়গাটির প্রদর্শনী পরিবেশ নষ্ট করতে দেখা যায়।

বিষয়টিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন পত্নীতলা উপজেলার সচেতন মহল। যা উপজেলার সচেতন মহলে সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, একটি জাতির কর্নধারের ছবির সামনে মটরসাইকেল গ্যারেজ ও ময়লা আসবাবপত্র রাখার কাজটি ঠিক হয়নি। কর্তৃপক্ষ চাইলে পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে রাখতে পারতেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত এ নেতার ছবিএইভাবে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবমাননা করেছেন। এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাশেম জানান, পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনগণের প্রদর্শনীর জন্য বঙ্গবন্ধু কর্ণার তৈরী করেছে এতে আমরা খুব খুশি হয়েছি। বর্তমান প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারবে, তিনার কার্যক্রম গুলো জানবে, তিনি কি ভাবে দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এসব বিষয়ে এই প্রদর্শনী দেখে শিখবে এটি আমাদের জন্য খুব গর্বের বিষয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো বঙ্গবন্ধু কর্ণার এর সামনে মোটরসাইকেল পার্কিং ও হাসপাতালে বিভিন্ন আসবাবপত্র রেখে পুরো জায়গাটির প্রদর্শনী পরিবেশ নষ্ট করেছে। এটি বঙ্গবন্ধু কে অবমাননা করা হয়েছে। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এর প্রতিকার ও বঙ্গবন্ধু অবমাননা কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্-র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা বঙ্গবন্ধু কর্নার এখনো উদ্ধোধন করি নি। এটা বড় আকারে করবো এইজন্য একটু দেরি হচ্ছে। প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুজিববর্ষ উপলক্ষে যে বঙ্গবন্ধু কর্নার হেল্প ডেস্ক উদ্ধোধন হয়েছিলো সেটি কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ফোনটা আবাসিক মেডিকেল অফিসার দেবাশীষ রায়কে দিয়ে দেন। পরবর্তীতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ দেবাশীষ রায় বলেন, বঙ্গবন্ধু কর্নার হেল্প ডেস্ক আমাদের ছিলো প্যাথলজির সামনে একটি ঘর ছিলো। সেখানে আমরা মুজিব কর্ণার হিসেবে বিভিন্ন বই রেখেছিলাম। তারপরে আমরা বড় পরিসরে করছি এটির কাজ চলমান। এখনো কাজ শেষ হয় নাই।

সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ ও মামলার হুমকি দেবার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, আমি বাহিরে আছি পরে কথা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password