নওগাঁ নিয়ামতপুরে জামাইয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়ীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নওগাঁ নিয়ামতপুরে জামাইয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়ীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়ী ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মহিষকুড়ি গ্রামে। এ বিষয়ে থানায় ভুক্তভোগী শাশুড়ী বাদী হয়ে জামাই মুকুল ও আপন শ্বশুড় মজিদুল ইসলামকে আসামী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহিষকুড়ি গ্রামের মজিদুল ইসলামের জামাই মুকুল হোসেন (৩৫) তার আপন চাচা শাশুড়ীর ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা অবস্থায় হাতে নাতে ধরে ফেলে। মুকুল হোসেন রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার বংপুর গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যো ৭টায় আমার ভাতিজি জামাই মুকুল আমাকে ফোন করে বলে চাচা বাড়ী আছে কি না। আমি বলি নাই। কিছুক্ষন পর জামাই মুকুল আমার বাড়ীতে চলে আসে। এসে আবার বলে চাচা বাড়ী নাই? আমার নিকট ১শ টাকা ধার চায়। আমি বললাম, আমি তো আগেই বলেছি তোমার চাচা বাড়ী নাই বলে আমি তাকে ঘরে খাটের পাশে রাখা চেয়ারে বসতে বলে খাটের বিছানার নিচ থেকে টাকা নিতে গেলে জামাই মুুকুল আমাকে পিছন থেকে ঝাপটে ধরে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি কোন রকমে নিজে রক্ষার চেষ্টা করি। এ সময় আমার স্বামী বাড়ী চলে আসে এবং জামাইকে হাতে নাতে ধরে ফেলে।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আমি বাড়ী এসে জামাইকে আমার স্ত্রীর সাথে ধস্তাধস্তি করতে দেখি। আমি সাথে সাথে জামাইকে ধরে প্রতিবেশীদের ডেকে আনি। আমার ভাইকেও ডেকে আনি। আমার ভাই সকালে এর বিচারের কথা বলে জামাইকে বাড়ী নিয়ে যায়। কিন্তু ভাই সকাল হওয়ার আগেই রাতেই জামাইকে তার নিজ বাড়ীতে গোপনে পাঠিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীর জা জহুরা বেগম বলেন, ঘটনা সত্যি। আমি নিজে এসে জামাইকে ঐ বাড়ীতে দেখেছি। চাচা ইউসুফ বলেন, সকালে বিচারের কথা বলে শ্বশুড় মজিদুল জামাই মুকুলকে বাড়ী নিয়ে গিয়ে সরিয়ে ফেলে। এখন বিষয়টি সম্পূর্ন অস্বীকার করছে। গ্রামের মাতব্বর দবির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঘটার পর আমরা গ্রামবাসী সমাধানের জন্য বসি। মজিদুল বিচারে জামাইকে হাজির করবে বলে কথা দিয়েছিল। কিন্তু সে হাজির করেনি। উল্টো আমাদের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদকে জানালে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বলেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য আজ কাল করে করে অনেকদিন গড়িয়ে গেছে। অভিযুক্ত মুকুল হোসেনের আপন শ্বাশুড়ী তাসকিয়া বলেন, ঘটনাটি সত্যি না মিথ্যা কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে সেদিন সে সময় জামাই আমাদের বাড়ীতেই ছিলো। মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্য এই সব রটাচ্ছে।

এ বিষয়ে থানার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার উপ-পরিদর্শন (এসআই) মোশারফ হোসেন বলেন, আমি তদন্ত করে রির্পোট করতেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password