ঈদ উৎসবে নেই ঈদ কার্ড

খুব বেশি দিন বোধ হয় ফিরে তাকানোর দরকার নেই। এ বছর ১৫ আগে।১৫ রমজানের পরেই সড়কের পাশে চট বিছিয়ে চলতো ঈদ কার্ড বিক্রি। সেই লভ্যাংশের টাকা দিয়ে ঈদের দিন ঘুরতে যাওয়া।কিংবা পুরানা পল্টনের গলিতে গিয়ে আজাদ প্রোডাক্টস কিংবা আইডিয়াল প্রোডাক্টস থেকে নতুন নকশার ঈদ কার্ড কেনার দিনও খুব বেশি অতীতের নয়। আর যাদের বাজেট কিছুটা বেশি ছিল তাদের গন্তব্য ছিল আর্চিস কিংবা হলমার্কসের মতো অভিজাত কার্ডের শো-রুমে।তবে এখন সেদিন নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা হাতে থাকা মোবাইল ফোনে ঝটপট চলছে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

আর যার প্রভাবে ঈদ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ ঈদ কার্ড হারিয়ে গেছে।বৃহস্পতিবার (১৩ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন  রাজধানীর পুরানা পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টসের গলিতে গিয়ে দেখা মিললো কার্ডের সব দোকানই বন্ধ। সবেধন নীলমনি হিসেবে যে শো-রুমটি খোলা ছিল সেখানেও নেই ঈদ কার্ড। পল্টন মোড় থেকে খানিকটা এগিয়ে যেতেই আজাদ প্রোডাক্টসের গলি। এটা পুরানা পল্টন লেন হিসেবে কাগজপত্রে লেখা হলেও এটিকে এখন সবাই আজাদ প্রোডাক্টসের গলি হিসেবেই চেনে। গলির মুখে আজাদ প্রোডাক্টসের বিশাল শো-রুম। সেটি বন্ধ। সামনে ভিড় জমিয়েছেন ফলের দোকানিরা। একই অবস্থা গলির ভেতরের আরেক শো-রুমের। সেখানে এখন বিরিয়ানির দোকান।

আরেক জনপ্রিয় কার্ডের শো-রুম আইডিয়াল প্রোডাক্টসও বন্ধ। তার পাশে এক সময় ছিল রয়াল প্রোডাক্টস। কার্ড ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এর উদ্যোক্তা এটিকে এখন খাবারের দোকানে রূপান্তরিত করেছেন।সব বন্ধ থাকলেও আজাদ প্রোডাক্টসের মূল শো-রুম খোলা থাকবে এ প্রত্যাশায় দৃষ্টি ফিরলো আজাদ সেন্টারের দিকে। যার দোতালায় বিশাল শো-রুম আজাদ প্রোডাক্টসের। কিন্তু সেটিও বন্ধ বলে জানালেন এর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী।একই অবস্থা কার্টুন প্রোডাক্টস, গ্রামীণ প্রোডাক্টস, বন্ধন প্রোডাক্টস, মেমোরিয়াল প্রোডাক্টস, হ্যাপি প্রোডাক্টস, আপন প্রোডাক্টস, নিউ লুক প্রোডাক্টসের শো-রুমের।পুরানা পল্টন এলাকায় একমাত্র খোলা রয়েছে আনন্দ প্রোডাক্টসের শো-রুম। তবে সেখানে নেই কোনো ঈদ কার্ড। বিয়ের কার্ড বিক্রির জন্য চলমান রয়েছে শো-রুমটি।সেখানেই কথা হলো আনন্দ প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেনের সঙ্গে। এখানকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২৫ বছর কাজ করেছেন আজাদ প্রোডাক্টসে।

গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে কেন, এখানকার কোনো শো-রুমেই আপনি ঈদ কার্ড পাবেন না। আজাদ ও আইডিয়ালে পুরনো কিছু ঈদ কার্ড ছিল। সেগুলোও বিক্রি হয়েছে বলে শুনিনি। যার কারণে ঈদের আগের দিন এখানকার সব শো-রুম বন্ধ। অথচ এক সময়ে ঈদের আগের দিন রাত দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত ঈদ কার্ড কিনতে মানুষ ভিড় করতো। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকেই কার্ডের ব্যবসা খারাপ। মূলত দেশের ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় এখন মানুষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এখন ভ্যালেন্টাইন্স ডে আর নববর্ষের কিছু কার্ড বিক্রি হয়। এর বাইরে আর কোনো কার্ড বিক্রি হয় না। ঈদ কার্ড বা হ্যাপি নিউইয়ারের কার্ড এখন আর বিক্রিই হয় না।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password