খুলনায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

মাদক বিক্রিতে নিষেধ করায় খুলনার খালিশপুরের চায়ের দোকানি লিটনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জবানবন্দি দিয়েছে মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রিয়াজ মুন্সী। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে রিয়াজ মুন্সী।আদালত সূত্রে জানা গেছে, লিটনের চায়ের দোকানের পাশে আসামিরা মাদক বিক্রি করতো। প্রায়ই লিটন তাদের এখানে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করতো। শনিবার(১৭ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে দোকান বন্ধ করে লিটন তার সহযোগী রিয়াজ ও মিজানকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উত্তর কাশিপুর বাইতিপাড়া কবরখানা রোড লাবু শরীফের বাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্র সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে।

এ সময় তারা লিটনকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। সন্ত্রাসীরা তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কুপিয়ে জখম করে। রিয়াজ ও মিজান ভয় পেয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আলামিন ও হৃদয়কে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার জন্য অনুরোধ করে। তারা উভয় ঘটনাস্থলে আসলে আসামিরা তাদেরও কুপিয়ে জখম করে। ওই ঘটনার পর এলাকাবাসী লিটনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিটন রাত ২টায় মারা যায়।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এটা একটা নির্মম হত্যাকাণ্ড। রিয়াজ মুন্সি এ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। আসামিদের ভয়ে মামলার ঘটনা জানা সত্ত্বেও তা পরিবর্তন করতে পারে। তাই মামলার প্রয়োজনে তার জবানবন্দি ১৬৪ ধারা মতে মঙ্গলবার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

এ হত্যা মামলায় পুলিশ এরমধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে দুই আসামি সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। অপর পাঁচ আসামি পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে।এর আগে ১৭ এপ্রিল (শনিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে লিটনকে কয়েকজন ফোন করে ডেকে নেয়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে লিটন ও আমিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আমিন দৌড়ে লিটনদের বাসার সামনে এসে পড়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে লিটনের স্বজনরা ঘুম থেকে উঠে লিটনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাৎক্ষণিকভাবে লিটন ও আমিনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক লিটনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন